পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদীকে কেন বাংলায় নদ বলা হয়, সেটা জিজ্ঞাসা ক'রো না, কারণ আমি নিজেই সেটা জানি না। এটুকু জানি যে নীল ভারী সুন্দর নদী যা আমি নিজের চোখে দেখেছি, নীলের বুকে জাহাজে বেড়িয়েছি। নীল নদের অববাহিকা অনেক বড় যাতে তানজানিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কেনিয়া, কঙ্গো ইত্যাদি দেশ অন্তর্ভুক্ত আছে। নীল কথাটা গ্রীক শব্দ 'নাইলোস' থেকে এসেছে যার মানে হচ্ছে উপত্যকা। আরো একটা কারণে নীল নদ মানুষের কাছে আকর্ষণীয়, সেটা হলো, যে ক'টি দেশের ভেতর দিয়ে নীল নদ বয়ে গেছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মিশর। আর মিশর যে তার প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন নিয়ে সবাইকে মোহিত করে রাখে সেটা তো তোমরা জানোই।
তবে নীলকে মিশরের সাথে যতটা যুক্ত করা হয়, আদতে সেটা ততটা নয়, কারণ এই নদীর মাত্র ২২ভাগ মিশরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। এই নদী মিশরের মরুভূমির বুকে সবুজ উর্বর জমি সৃষ্টি করেছে যেখানে যেমন প্রাচীন কালের মিশরীয়রা চাষ-বাস করে জীবন ধারণ করতো, এ যুগের মিশরীয়রাও ঠিক সেটাই করে। তারা সেখানে ফসল ফলাতো, নদীতে নৌকা ভাসিয়ে চলাচল করতো, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নানা জায়গায় যেতো। নীল নদের পাড়ে এক ধরনের নল বন ছিল, যাকে বলা হতো প্যাপিরাস আর এগুলো দিয়েই প্রাচীন মিশরীয়রা কাগজ বানাতো। সেই কাগজে লেখা প্রাচীন মিশরীয় লিপি হাইরোগ্লিফিক পাওয়া গেছে। তারা এই নল দিয়ে নৌকাও বানাতো।