হা য়! এমন ধারা গো...! মেঘা তাই ভাবল, আর হাতড়ে হাতড়ে খুঁজল; কাঁচা তিতকুটে বাতাবি লেবুর মতো উতরোল বয়েস থেকে ধীরে ধীরে সে নেমে এল একদণ্ডে পানের বাটার লিকলিকে অন্ধকারে। আর হারিয়ে গেল, ছোটো পানসে আরশোলা যেমন, হাসতে হাসতে, সুপুরিগুলো। মেঘা পুনরায় ডাকল-ও বউ...বউ... সুপুরিডা খুঁজি দাও দিনি...ও বউ...
তার এই স্বরের মধ্যে নিঃসঙ্গ রোদনরুদ্ধ বালিকার করুণা বেজে উঠল। বিহ্বল নিষ্কম্প দৃষ্টিপাত আর অস্পষ্ট বিরক্তিতে বিড়বিড় করে মেঘা-মরণ হলি বাঁচতাম... মরণও হয় না! সারাদিন হরিকেত্তন তো আমার কতা কানে ঢুকবি কেনে! কথাগুলো চিটা ধানের মতো ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে চিৎপাত হয়ে পড়ে ফাঁকা উঠোনে।
উঠোনে রোদ ঝামরে ঝামরে উঠছে। চারপাশের বনবাদাড়ের বুনো লতাপাতার স্যাঁতসেঁতে নিস্তব্ধ গন্ধ, ক্রুর আর প্ররোচনাময়। উঠোন থেকে উঠোন, উঠোন ছাড়িয়ে খিটখিটে দাঁতাল রোদ মেঘাকে তোলপাড় করে পুড়িয়ে মারে। মাছ ভেজে তোলা কড়াইয়ের মতো উঠোন আর বৈঠকখানার মসৃণ কিনার পুড়ে যাচ্ছে..