একটা মানুষের যাপিত জীবনের নিত্যকার ভাবনাগুলো কোথা থেকে যে কোথায় বয়ে যায়! স্বয়ং মানুষটিও তা জানতে পারে না! আমার সেইসব বয়ে যাওয়া দৈনন্দিন ভাবনাগুলোই এই গ্রন্থ- চিঠির আকারে লেখা। আমার প্রিয় মানুষটির কাছে লেখা এই পত্রগ্রন্থটি সেই ভাবনাগুলোরই যেন এক দীপ্ত দৃষ্টান্ত।
তবে আমার মূল ভাবনাটির পুরোটাই কিন্তু এই গ্রন্থটি নয়। কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে যখন মূল ভাবনার প্রাসঙ্গিক এক পার্শ্ব-ভাবনার উপর আমার মগজের মাইক্রোস্কপিক দৃষ্টি পড়ল, তখনই তৈরি হলো এই দৃষ্টান্তের। প্রকৃতপক্ষে সেসময়টায় বিস্মিত না হয়ে আমার উপায় ছিল না! বটবৃক্ষ যেমন কালের ব্যবধানে তার মূল কাণ্ডকে ছাড়িয়ে উপকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রকাণ্ড হয়ে ওঠে, ‘নিঃসঙ্গতা এক মিথ’ পত্রগ্রন্থ-বৃক্ষটি তেমনই আমার মূল ভাবনা-কাণ্ডের এক শাখা-ভাবনা-কাণ্ড। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কী মূল ভাবনাটি হারিয়ে গেছে? আমি বলব, না; আছে। আছে গ্রন্থিত ভাবনার ঠিক আড়ালেই। এবং আড়ালের ভাবনাটির ভবিষ্যৎ ভবিষ্যতের হাতে ছেড়ে দিয়ে আমি আপাতত ভবঘুরে হতে চলেছি।