সাইফুল ইসলামের 'নরকের জলসাঘর' কবিতাগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি পড়লাম। কয়েকটি কবিতা, কয়েকটি পঙক্তি বারবার পড়লাম। অদ্ভুত এক শিহরণ জাগিয়ে গেলো হৃদয়ের গোপন প্রকোষ্ঠে। কখনো মনে হচ্ছিলো আমাদের প্রিয়তম কবি আবুল হাসান পড়ছি, কখনো বা সামনে ভাসছিলো ত্রিদিব দস্তিদার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাইফুল ইসলাম ঠিক সাইফুল ইসলাম-ই থেকে গেছেন। কবিতার চিরায়ত ব্যাকরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখেননি তিনি।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। আবিষ্কার করেছেন অন্যরকম কিছু। একেবারেই ভিন্নরকম কণ্ঠস্বর তার কবিতা। যার রেশ থেকে যায় দীর্ঘসময়। নিজস্বতা নিয়েই তিনি নির্মাণ করেছেন— চিত্রকল্প, উপমা, উৎপ্রেক্ষা।
নষ্ট সময়ে দাঁড়িয়ে কবি লিখেন, "পুরাতন ফ্যানের পাখায় বিরক্তিকর আওয়াজ; যেন বলে যাচ্ছে ধ্বংস হোক সকল অপবিত্র মানুষ"-'র মতো পঙক্তি কিংবা ''ঐতিহাসিক হৃদয়'র কবিতা। সাইফুল ইসলামের কবিতায় নিজস্ব ভাষা আছে, কল্পনা আছে। চেষ্টায় গাফলতি না হলে, যা তাকে সহজ করে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে কবিতা পাঠকদের কাছে।