‘নস্টালজিক ড্যান্সবার’ এই শব্দ দুটাকে যদি ভেঙে বলি তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় অতীতের কোনো নৃত্য মঞ্চ। যেখানে মাতাল হয়ে রাতের পর রাত কবিতা লিখেছিল একজন কবি। ওয়াইনের পরিবর্তে সে পান করেছিল গ্লাসের পর গ্লাস শব্দ। শব্দের নেশায় জড়িয়ে গিয়ে ড্যান্সবারে সে নৃত্য না করে, মেরুন কার্পেট জুড়ে কবিতা লিখেছিল অনেকগুলো। সে রাষ্ট্রের কবিতা লিখেছে, কখনও কখনও দার্শনিকও হয়ে উঠেছিল নেশার প্রচণ্ড ধাক্কায়। আবার প্রেমের আড়ালে সে দুঃখবোধ লিখেছিল কিছু। হয়ত সেই ড্যান্সবারটা কোনও রাতেই তাকে কোনও দয়িতার সঙ্গ পেতে দেয়নি, তাই। ময়ূখ মাহবুব আর তার লেখা ‘নস্টালজিক ড্যান্সবার’ বইটা নিয়ে কথা বলছিলাম এতক্ষণ। এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়ে আধুনিকতার নেশায় আমি বেতাল হয়ে উঠেছি ইতোমধ্যে। ‘বাঘ ও হরিণ/ মানুষ ও মানুষ/ অনন্তকাল অপেক্ষা করে/ রাত্রির জন্য’ এইরকম লোম দাঁড় করিয়ে দেওয়ার মতো প্রেমময় লাইনগুলো পড়লে নেশা ধরাটা স্বাভাবিক। আমরা পাঠকেরা কবিতায় কিছু জোস খুঁজি, উত্তাপ খুঁজি, নেশা খুঁজি, আধুনিকতাÑ মায়াÑ প্রেম, এসব খুঁজি। ময়ূখ মাহবুব তার কবিতাগুলোয় এ সমস্ত উপাদানগুলো অল্প করে হলেও দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাই ‘নস্টালজিক ড্যান্সবার’কে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করা অন্তত আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এই বইটিকে আমি এক কথায় বলতে চাইছি, ‘একের ভিতর সব’।