জংলার ভেতর ছাতিম গাছের নিচে বৃত্তাকারএকটি জায়গা। জায়গাটা খুবই পরিষ্কার, কাঁদামাটি দিয়ে লেপা-পোছা একদম। মতিয়ারার দৃষ্টি এড়ায় না কিছুই, মাটির উপরের আবছা রেখাগুলো গভীরভাবে খেয়াল করলে বোঝা যায়, একটা চোখ আঁকা সেখানে। চোখের ভেতরকার রেখাগুলো স্পষ্ট, রক্তাভ। তন্ময় হয়ে চেয়ে থাকে মতিয়ারা। একসময় সে বুঝতে পারে, মাটিতে শুধু চোখই আঁকা না; আঁকা রয়েছে একটি বিকট দর্শন প্রাণীর ছবি।
এমন প্রাণী কী পৃথিবীতে আছে!
মতিয়ারা জংলা থেকে ফিরে আসতে চায় তখনই। কিন্তু, পারে না সে। অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধটা ছড়িয়ে পড়েছে ততক্ষণে। পেছনে কে এসে দাঁড়িয়েছে মতিয়ারা তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। একটুও নড়তে পারেনি মতিয়ারা। সে দেখল তাকে কয়েকটা হাত প্যাঁচিয়ে ধরেছে। প্রতিটা হাতে অসংখ্য আঙুল আর প্রতিটি আঙুলের নখের ডগায় চোখ!