"স্রোতধারা ভাসিয়ে পালক নিয়ে গেছে আমার
নিরুদ্দেশে।" কবি মাশুক আল হোসাইন ফেরত
চাইছেন সে পালক; যে পালক আর ডানায় ভর
করে ইকারুসের আকাশে উড়তে চেয়েছেন
তিনি। "ম্লানতার বাঁশবনে চাঁদ বড় দুঃখময়"
এটা জেনেও তিনি উপত্যকা ও সমতলে
"গভীর-গভীর অতলান্তিক মোহাচ্ছন্ন" নীরবতায়
ঋষির মতো জীবনের স্বরলিপি রচনা করেছেন।
তার এক-একটা কবিতা তো এক একটা গল্পই
অথবা টিএস এলিয়টের প্রুফ্রকের প্রেমের গানের
মতো কবিতার প্রতি লাজুক প্রেম প্রস্তাব। "কিছু
একটা হয়েছে আমার, বলি, দিন রাত্রি সন্ধ্যার
যাপনে"-তাই তো 'ভিড়ের মধ্যে ভিড়' হয়ে
যেতে পারে নি সে কাব্যগাথা। তাই বুঝি সে
কবিতা স্বকীয় আড়ালে জীবনানন্দ দাশের
নিয়তি চেতনার মতো শূন্যের অতীত উপাখ্যান
খুঁজে আবিষ্কার করেছে, "শুরু মানেই শূন্যতা,
শূন্য মানেই শুরু"। "বরেন্দ্রভূমির মতো মাথার
নিচে হাত রেখে শুয়েছিল, মাশুক নামে ছিল
নাকি কেউ এখানে"-এইভাবে কবিতায় বিলীন
হয়ে যাওয়া কাব্যের সন্ন্যাসে সুদীর্ঘ ভ্রমণের
পথরেখা হয়ে ওঠে একজন কবির জীবন।