কিংবদন্তিরা গল্পে থাকেন, থাকেন মর্মলোকের ইতিহাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে আমরা হিশাম হতে চাইতাম। একদিন এক সাধুপুরুষ আমাদের হিশাম হওয়ার মন্ত্র শেখালেন। মন্ত্রোচ্চারণের পর আমরা দেখলাম, মন্ত্র বলে হিশাম হওয়া যায় না! সাধনাই হিশাম হওয়ার মূলমন্ত্র। মীননাথ হয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে একদিন দেখে ফেললাম হিশামের তত্ত্ব-জ্ঞানের সাধনা।
হিশাম মোহাম্মদ নাজের এক সন্ত-কবি। একতারার মর্মে আঙুল ছিঁড়ে বাজে তাঁর কবিতার গান। অতল দেখার চোখে সে কবিতা নিজেই বাউল হয়ে ওঠে। কবিতা বাউল হলে, ভাষা তখন মনের-মানুষ হয়ে ধরা দেয়। তখন আপন সুরেই সে বলে ওঠে-'শেষ প্রহরে প্রশ্ন জাগে/ কে তুমি? কও তুমি কে?/ আয়নায় দেখি আপন আকার/ জন্মলো যে, এই কি সে?'
সিনট্যাক্স, ডিকশন আর কবিতার মেটাফোর নির্মাণে হিশাম যেন সিদ্ধাচার্য। সাধকের আশ্চর্য মুদ্রার মতো ধ্যানমগ্ন তাঁর কাব্যপ্রাণ। তান্ত্রিক যেমন নিজের ভেতরেই তালাশ করেন অচেনাকে; হিশামের কবিতা তেমনই বিভোর আত্মজৈবনিক। ব্রহ্মাণ্ড বয়ে বেড়ানো এক লীলাক্ষেত্র তাঁর ভাষাবিশ্ব। শব্দে শব্দে জীবন বিছিয়ে থাকে সে ভাষায়। মৃত্যুর ভেতরেও তিনি আরোপ করেন বর্ণমালার সজীব স্পন্দন।
হিশাম তাই বাংলার চিরায়ত শব্দবাউল।
সুমন শামস
কবি ও গল্পকার