প্রিয় অনুসূর্য, …সেদিন আমি বাড়ি যাইনি, আমার শরীর মন কোনোটাই টানছিল না, মায়ের মরামুখ দেখার মানসিক শক্তি ছিল না হয়তো।
কিংবা হয়তো আমি এস্কেপিস্ট বা এমনই নিষ্ঠুর যে মায়ের মৃত্যুও আমাকে বিচলিত করতে পারেনি।…. মরে যাওয়ার আগে মা ছয় বছর অচল, অবশ, কথাহীন হয়ে পড়েছিল বিছানায়।… ওই সময়ও আমি বাড়ি যেতাম না। গেলেও তাড়াহুড়ো করে চলে আসতাম। মাকে জড়িয়ে ধরলে বুকের ভিতরটা ভেঙে শেষ হয়ে যেত। মাঝরাতে মা অদ্ভুত রকমের শব্দ কাঁদত। যেমন গভীর রাতে আহত রোগাক্রান্ত নিঃসঙ্গ কোনো কুকুর কেঁদে চলে রাতভর। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারতাম না।
কাঁদতেও পারতাম না। মায়ের কান্নার প্রতিটা শব্দে যেন আমার মৃত্যু হত।