মামুন ওয়াদুদের কবিতার আধার ও আধেয় হলো দরিদ্র রিক্ত মানুষ, অয়োময় সময়েও কবিকণ্ঠে খুব সহজেই ঝংকৃত হয় কিছু ঘোষণার উচ্চকণ্ঠের ধ্বনি, আশাহত স্বপ্নভঙ্গের আওয়াজ, আবার কিছু কবিতায় নিরাশার কোলাহল এবং কোলাহল শেষে স্থির হয়ে অনুভব করেছেন দ্বিধা, দুর্বলতা, প্রতারণা, পতনের প্রসঙ্গ। কবিতায় ব্যক্তি হৃদয়ের সার্বিক অনুভব ও উপলব্ধিকে ছুঁতে চেয়েছেন কবি। শব্দের বারুদে বোমায় শিল্পানুভবে রচিত হয়েছে সহজ সুরের প্রতিবাদী সব কবিতা। তাঁর কবিহৃদয়ের মানস শিল্প-সৌধের অন্যতম অবলম্বন হলো সাধারণ মানুষ। পীড়িত জীবনে প্রতিষ্ঠা এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে নিঃশেষ করে ফেলা সাধারণ মানুষের জীবনানন্দ যেন আবার এই সকল কবিতার মধ্যে পাওয়া যায়- ‘বাবা’, ‘কন্যা তুমি’, ‘নিয়তি’, ‘গাঁয়ের দাওয়াত’, ‘সকাল’ ইত্যাদি। হয়তো অজেয় কিছু ফুটুক বা না ফুটুক তাঁর কবিতায় কিন্তু কচি কচি পাতায় যে সবুজাভের আগমনী বার্তা দিয়েছেন তাতে বোধকরি কবিতাগুলি পাঠ করলে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই। প্রথম কাব্যগ্রন্থ হিসেবে আশালতার ধ্বনি হয়ে পাঠকহৃদয়ে ঠাঁই করে নেবে এই আশা করা যায়।
লিটন আব্বাস