বরুণ গাছের সাথে সখ্যতা হয়েছিল একটি হিজল গাছের। এই সখ্যতা মেনে নিতে পারেনি কুচক্রী মহল। মহলের কুৎসিত বীভৎস চিন্তানাশক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছ দু’টোকে শিকড়সমেত উপড়ে দু’টোকে দুইদিকে ছুড়ে ফেলা হলো অন্ধকার গহিন অরণ্যে। একদিন বরুণ গাছটা শুকিয়ে মরে যায়। অন্যদিকে কোনোরকমে মাটি আঁকড়ে বেঁচে যায় কষ্টসহিষ্ণু হিজল গাছটা।
নানান প্রতিকূলতায়ও সে বড় হয়, ডালপালা মেলে ধরে মুক্ত আকাশের দিকে। ডালপালা বড় হলেই কিছুদিন পর পর কাঠুরে এসে কেটে নিয়ে যায়। মেদহীন শরীরে কোনো প্রকার বেঁচে থাকে হিজল গাছটি।
হিজল গাছটি ঘাত-প্রতিঘাত টানাপোড়েন নিয়েই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। হিজল গাছটি নিবেদিত হলেও এখনও নিষিদ্ধ। ‘অতঃপর একটি হিজল গাছ’ কাব্যগ্রন্থে লেখক হিজল গাছকে মানুষের রূপক হিসেবে কল্পনা করে লেখাগুলো লিখেছেন। তার মায়াময় লেখায় যেমন আছে কষ্ট, যুদ্ধ, লড়াই তেমনি অন্যদিকে আছে পচে যাওয়া নষ্ট সমাজের নানাবিধ অসঙ্গতির চিত্র।