কোনো কোনো মানুষ আছেন, নিজের সময়ে আলোড়িত করে তোলেন চারদিক।
আপন কর্ম ও যোগ্যতা-বলে সৃষ্ট সেই আলোড়ন তিনি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত
করে দিয়ে যেতে চান। নিজেকে সেই আলোড়নের কেন্দ্রতে রেখে কিংবা দৃষ্টিকটুভাবে কিন্তু মানুষ তো সর্বতোভাবে কৃতজ্ঞতার ভাব-ডোরে বন্দি। আর তাই কখনো কখনো চিত্রিত হন আব্দুর রশীদ চৌধুরীর মতো মহানুভব ব্যক্তিরা। মানুষ প্রত্যক্ষ করেন এই আপাত শান্ত, শীতোষ্ণ ব্যক্তির হৃদয়-মন কতোটা আলোকমালায় প্রোজ্বল।
নিজেকে তুলে ধরে কোনো প্রশংসা অথবা অমরত্বের আশা করেন না, আয়োজনও করেন না। নিত্যদিনের কাজ করেন এবং তারই মাঝে নতুন দিনের জন্য কাজ করেন।
আমরা যাঁদের নায়ক বলি, তাঁদের হৃদয়ের নায়ক হয়েই তাঁরা বেঁচে থাকেন। তাঁরা অনেক নায়ক সৃষ্টি করেন। ধাবমান সময়ে তাঁদের স্মরণ করার কথা মানুষ ভুলে যায়।
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের দুর্গাপাশায় আব্দুর রশীদ চৌধুরী যখন জন্মগ্রহণ করেন সেই সময় এই অঞ্চলের মুসলিম সমাজ কুসংস্কার ও গোঁড়ামির শৃঙ্খলে বন্দি ছিল। মুসলিম নারীরা ছিল অবরোধবাসিনী। বিরুদ্ধ পরিবেশ-পরিস্থিতি অতিক্রম করেই অব্যাহত থাকে আব্দুর রশীদ চৌধুরীর পথচলা।