স্মৃতির জলছবি
স্মৃতি বড় অদ্ভুত এক ক্যানভাস। কখনো তা এক পশলা বৃষ্টির মতো শীতল, আবার কখনো তা দুপুরের তপ্ত মরুর মতো দহনজ্বালা নিয়ে হাজির হয়। রাজশাহী আমার জীবনের সেই দহনবেলার এক অমোঘ অধ্যায়। যে কিশোর একদিন এক বুক স্বপ্ন আর একরাশ ঘর-কাতুরে ভয় নিয়ে পদ্মা পাড়ের সেই শহরে পা রেখেছিল, সে আজ চব্বিশ বছর পর কলম হাতে নিয়ে ফিরে তাকালো নিজেরই ফেলে আসা ছায়ার দিকে।
খালাত ভাই রাশেদ—যে আমার ঘর ছাড়ার সেই বিষণ্ণ দিনে ছায়ার মতো পাশে ছিল—সে একদিন আবদার করেছিল রাজশাহীর স্মৃতি নিয়ে একটি কবিতা লিখতে। কিন্তু রাশেদ হয়তো জানত না, আমার হৃদয়ের গোপন সিন্দুকে রাজশাহীর যে স্মৃতিরা জমা হয়ে আছে, তা কেবল গুটিকতক চরণে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। সেই জমানো দীর্ঘশ্বাস, অপমান আর যন্ত্রণার মেঘপুঞ্জ মিলে কখন যে একটি কবিতার সীমানা ছাড়িয়ে আস্ত এক উপন্যাসের রূপ নিল, তা আমি নিজেও টের পাইনি। রাশেদকে অশেষ ধন্যবাদ, তার সেই ছোট্ট ‘উসকানি’ ছাড়া হয়তো এই পাণ্ডুলিপি আলোর মুখ দেখত না।
এই উপন্যাসের পাতায় পাতায় মিশে আছেন আমার বাবু মামা (রাজু আহমেদ বাবু)। তিনি আজ নেই, কিন্তু তাঁর শেখানো ‘জলের মতো হওয়া’র দর্শনেই আমি আজকের এই আমি হয়ে উঠেছি। আমার জীবনের কঠিনতম সেই দিনগুলোতে তিনি যদি আমার হাত না ধরতেন, তবে হয়তো বাস্তবতার এই রুক্ষ পথ চেনা আমার পক্ষে কোনোদিনই সম্ভব হতো না। তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি রইল আমার গভীরতম শ্রদ্ধা।
পরিশেষে, আমার প্রিয় পাঠকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনারা আমার স্মৃতির এই অলিগলিতে সহযাত্রী হয়েছেন, আমার যন্ত্রণাকে নিজেদের ভাবনায় ঠাঁই দিয়েছেন। জীবন আসলে প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তির যোগফলই বেশি, আর সেই অপ্রাপ্তির গল্পগুলোই মানুষকে পূর্ণতা দেয়।