ফাল্গুন মাসের এক ফুরফুরে সকাল। সূর্য ওঠে নি তখনও, কিন্তু দিনের আলো ছড়িয়ে গেছে সবখানে। সেই সময়ে এক ঘন বনের ভেতরে... একটু ফাঁকা জায়গায়... জণ্ড নেয় এক হরিণশিশু। খবর পেয়ে আশপাশ থেকে ছুটে আসে সকল পশু ও পাখি। আসবেই তো! এ তো সাধারণ কোনও শিশু নয়... সবার থেকে আলাদা এক অন্যরকম শিশু। থামপার নামের এক খরগোশ জিজ্ঞেস করে, কি নাম রেখেছো রাজপুত্তুরের? মা হরিণ বলে, ওকে ডাকবো বামবি নামে। বনে কোনও অভাব নেই বন্ধুর। দলে-দলে আসে গেছো প্রাণী ওপোসাম আর কাঠবিড়াল, গায়ক পাখি রবিন আর রেন। বলে, এই যে আমাদের রাজপুত্তুর! এক-দু'দিন পর... ঝরা পাতায় ছাওয়া বনের পথ ধরে মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় বামবি। প্রতিদিন ওর সঙ্গে খেলতে আসে থামপার আর ফ্লাওয়ার নামের এক ভোঁদড়। এক সকালে মায়ের সঙ্গে এক নতুন পথ ধরে বেড়াতে যায় বামবি। সে পথের শেষে বিশাল সবুজ এক মাঠ। কি সুন্দর চোখজুড়ানো সেই খোলা মাঠ! কত জায়গা লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে ছুটে বেড়াবার। ব্যামবি তিন... চার... পাঁচবার লাফিয়ে ওঠে শূন্যে। তারপর থেমে দম নেয় কিছুক্ষণ। তখন ওর দিকে এগিয়ে আসে আরেকটি হরিণশিশু। ডাকে, এই যে... বামবি তাড়াতাড়ি লুকায় মায়ের পেছনে। দেখে মা বলে, ভয় পেয়ো না বামবি সোনা! ওর নাম ফালিনে। তোমার এনা খালার মেয়ে ও।