প্রায় দেড় হাজার বছর আগের কথা। সে সময় দক্ষিণ ভারতে মহিলারোপ্য নামে একটি রাজ্য ছিল। সে রাজ্যের রাজা অমরশক্তি ছিলেন খুবই বিদ্বান, বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ। অমরশক্তির ছিল তিন ছেলে। তিন ছেলেই বোকার হদ্দ। রাজা একদিন মন্ত্রীদের ডেকে বললেন, আমার এই ছেলেদের যাতে বুদ্ধির বিকাশ হয় তার জন্য আপনারা কোনো উপায় বের করুন। সুমতি নামে এক মন্ত্রী বললেন, বিষ্ণুশর্মা নামে এক ব্রাহ্মণ আছেন। তিনি সকল বিদ্যায় পারদর্শী। একমাত্র তিনিই পারবেন এদেরকে উপযুক্ত শিক্ষাদান করে মানুষের মতো মানুষ করতে।
রাজার অনুরোধে বিষ্ণুশর্মা তিন রাজপুত্রকে শিক্ষাদানের ভার গ্রহণ করলেন। তিনি মিত্রভেদ, মিত্রপ্রাপ্তি, কাকোলুকীয়, লব্ধপ্রণাশ ও অপরীক্ষিতকারক-এই পাঁচটি তন্ত্র রচনা করলেন। তিন রাজপুত্র এসব শাস্ত্র অধ্যয়ন করে ছয় মাসের মধ্যে নীতিশাস্ত্রে পারদর্শী হয়ে উঠলেন। সেই থেকেই এই পঞ্চতন্ত্র ছোটোদের নীতিশাস্ত্র শিক্ষা ও জ্ঞানলাভের জন্য প্রচারিত হয়ে আসছে।
শিশুমনের উপযোগী এ কাহিনিগুলো সারা পৃথিবীতেই সমাদৃত হয়েছে। মূল পঞ্চতন্ত্রের গল্পগুলো এক সূত্রে গাঁথা হলেও এই বইটিতে এসব গল্প সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা গল্প হিসেবে শিশুদের উপযোগী করে সহজ ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে।