প্রাচ্যবিদদের দাঁতের দাগ৷ ওরিয়েন্টালিজম, ওরিয়েন্টালিস্ট, استشراق، مستشرقين সব একই অর্থ বহন করে, অর্থাৎ প্রাচ্যবাদ৷ এই মতবাদের পণ্ডিতদের প্রাচ্যবিদ তথা مستشرقين বলে৷ এই শব্দগুলোর সাথে আমরা তেমন পরিচিত নই৷ কেন পরিচিত নই? এর উত্তরে স্রেফ 'আমাদের দুর্ভাগ্য' ছাড়া কিছুই বলার নেই৷ তাই বলে এই নয় যে এই মতবাদ খুব ফযীলতপূর্ণ৷ দুর্ভাগ্য এজন্যে যে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে সদা-সর্বদা নতুন নতুন আবিষ্কৃত রাসায়নিক বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে ইসলামের আকাশে, মুসলমানদের মন-মগজে৷ আমাদের থেকেই তাদের উচ্ছিষ্টভোগী কিছু কুকুর আমাদের পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে৷ তাদের চিন্তার দাস বানিয়ে রেখেছে৷ আবার এরাই বংশবিস্তার করে চলেছে চক্রবৃদ্ধি হারে৷ দুর্ভাগ্য এজন্যে যে, আমরা আমাদের আসল শত্রু চিনতে পারলাম না৷ দুর্ভাগ্য আমাদের, যারা আমাদের নাড়ি-ভূড়ি আঁত পর্যন্ত পৌঁছে ১৩০০ বছর অবধি কলিজায় আঘাত হানতেই থাকল, সেই তাদের আমরা এখনও চিনতেই পারলাম না৷ এখানেই দুর্ভাগ্য আমাদের । ইউরোপীয় সাহিত্যের অন্যতম কবি দান্তের ডিভাইন কমেডিতে ইসলামের নবীর উপর কতখানি বিদ্বিষ্ট মনোভাবে আক্রমণ করেছে একটু নজর ফেলি৷ সেখানে 'মাওমেত' নামে উল্লেখ করেছে মুহাম্মদ সা, কে৷ তার কাল্পনিক নরকের ৯ টি স্তরের অষ্টমটিতে 'মাওমেত' এর অবস্থান৷ এর আগে আছে অপেক্ষাকৃত কম পাপে বন্দি পাপীরা৷ যেমন কামুক, ধনলোলুপ, পেটুক, খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধবাদী, আত্মহননকারী ইত্যাদি৷ নরকের সর্বনিম্ন স্তরে শয়তান৷ আর তার আগের ধাপটি জালকারী ও বিশ্বাসঘাতকদের জন্যে৷ সেখানে আছেন মাওমেত৷ মানবতার নবী সা, এর শানে আরো জঘন্য অরুচিকর হেয়পূর্ণ শাস্তির নির্লজ্জ বিবরণ দিয়েছে চরম ইসলামবিদ্বেষী খ্রিস্টান সাহিত্যিক দান্তে । আজ মানবতার নবীকে কটুক্তি করা হয় অশ্লীল ভাষায়, ভেতরে লুকায়িত যাবতীয় বিদ্বেষ নির্গত করা হয় রাসূলের মহা সম্মানজনক শানে৷ এর গোড়ার খবর কী আমরা রাখি? আজকের তসলিমা, আসিফ, রাজিব, শামসুর, জাফররা কার সৃষ্টি? এসবই প্রাচ্যবাদের বিষবাষ্প খ্রিস্টান ইউরোপীয় সাহিত্য হয়ে আমাদের সমাজ কলুষিত করছে৷ মুসলমানের বাচ্চাদেরকে তাদের উচ্ছিষ্টভোগী কুকুরে পরিণত করেছে এবং করে চলেছে । প্রাচ্যবিদদের আরেকটি ভয়াবহ দাঁতের দাগ হচ্ছে, ইসলামকে মোহামেডানিজম অর্থে ব্যবহার করা৷ যার অনুবাদ অনেকেই করে থাকেন দ্বীনে মুহাম্মদিয়্যাহ বলে৷ নিজেদের শব্দে ইউরোপীয় আবহ লক্ষ্য করে তারা পুলকিত হন৷ ভুলে যান মুহাম্মদ শব্দের সাথে 'ইজম' যুক্ত করে ইউরোপীয়রা আসলে কী বুঝাতে চায়৷ ইংরেজি ইদং এর ব্যবহার হয় কোনো তন্ত্র বা মতবাদ বুঝাতে৷ ন্যাশনালিজম-জাতীয়তাবাদ, সেক্যুলারিজম-ইহজাগতিকতাবাদ, কম্যুনিজম-সমাজতন্ত্র বুঝিয়ে আসছে জন্মের পর থেকেই৷ এভাবে ইজম শব্দটি ইসলামের ক্ষেত্রে চালিয়ে দিতে পারলে তার ঐশীত্ব ঘুচানো যাবে৷ ধারণা জন্মাবে এটা কোনো ঐশী ব্যাপার নয়৷ এক মহান ব্যক্তির মতবাদ৷ যাকে ধর্ম বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে । এভাবেই ইসলামের উপর প্রাচ্যবিদদের সূক্ষ্ম নখর থাবার আঁচড়গুলো ভোতা করে দিয়েছেন, তাদের পর্দার আড়ালের মিশনগুলো দেরিতে হলেও একেবারে দিগম্বর করে দিয়েছেন আমাদের গর্বের ধন, জাতির সম্পদ মুসা আল হাফিজ ভাই৷ বাংলা ভাষায় এই বিষয়ের উপর এই প্রথম বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় রয়েছে শিহরণ জাগানিয়া বিস্ময়কর তথ্য, তাদের মিশনগুলোর প্রতিরোধক সমুচিত জবাব৷ প্রত্যেক শিক্ষিত সচেতন মুসলিমের এ বইটি পড়া দরকার । আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুসা ভাই ( Musa Al Hafij ) এই বইটি এখলাসের সঙ্গে লিখে থাকলে কিয়ামতের দিন এটাই তাঁর নাযাতের কারণ হবে ইনশাআল্লাহ!
- লিখেছেন -মুফতি জিয়া রাহমান সাহে