মূল লেখক কিংবা ভাষান্তরকারী, এ দুজনের মধ্যে কার কৃতিত্ব বেশি তা নির্ধারণ করা সুকঠিন। তবে প্রথমেই যেটি বলতে হয় সেটি হলো, মূল লেখক মাত্র বত্রিশ বছরের ভারতের (খ্রিস্টীয় ১৭০৭-৩৯) ইতিহাস বলতে গিয়ে পারতপক্ষে সেকালের রাজনীতির খুঁটিনাটি কিছুই উপেক্ষা করেননি। সম্রাট ছাড়াও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাবলির সাথে জড়িত উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলোরও পরিচয় উহ্য রাখেননি। নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত শ্রমসাপেক্ষ কাজ।
এজন্য তাঁকে সংগ্রহ করতে হয়েছে নানান দলিল দস্তাবেজ। আর এ বিষয়ে তাঁকে সাহায্য করেছে দুটি অনুকূল সুযোগÑএক. তিনি খোদ ব্রিটিশ সরকারের সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা (১৮৬৩-৮৮) ছিলেন এবং দুই. ফারসি-তুর্কি-হিন্দি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। এটি ইতিহাসবিষয়ক গবেষকগণকে জুগিয়েছে একটি ভিন্ন মাত্রা। তা ছাড়া আজকের পাঠকমাত্রই ধাপে ধাপে অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন যে, সে-যুগে ইতিহাস রচনার ধারাটি আজকের ধারা থেকে যথেষ্ট আলাদা গোছের ছিল। এক্ষেত্রে প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে অধিক সংখ্যায় টীকার ব্যবহারসহ পরিশিষ্ট সংযোজনের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।