হ্যাবিট ট্র্যাকার অভ্যাস গড়ার বই
জীবন এক অবিরাম পরিবর্তনের গল্প। আর সেই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি কী? অভ্যাস। প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলো—যেগুলো আমরা অবহেলা করি—সেগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বড় সাফল্যের বীজ। কিন্তু প্রশ্ন হলো—অভ্যাস গড়া কি সহজ? না, মোটেও না। আমরা অনেকেই শুরু করি বিশাল আশা নিয়ে, কিন্তু পথের মাঝেই থেমে যাই। যে কমন কারণে আমরা থেমে যাই:
১) আমরা অভ্যাস গড়ার সঠিক পদ্ধতি জানি না
২) কোন কাজে ধারাবাহিক না।
৩) এবং সবচেয়ে বড় কথা—আমরা প্রস্তুত নই!
৪) আমরা খুব দ্রুত ফলাফল আশা করি।
৫) ব্যর্থতা এলেই নিজেকে দোষ দিই এবং হতাশ হয়ে যাই।
৬) আমরা স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ না করে শুরু করি।
অভ্যাস গড়ার পথ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তাই জীবন বদলে দেবার যাত্রা আজই শুরু করুন ।
ডোপামিন ডিটক্স
আপনি কি কোন কাজ করতে গড়িমসি করেন ? প্রায়শই নিজের ভেতরে অস্থিরতা অনুভব করেন এবং এ জন্য হাতে থাকা কোন কাজে ফোকাস করতে পারছেন না ? আপনার জীবন ইতিবাচক পরিবর্তন করতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো আপনাকে আকৃষ্ট করতে পারছে না ?
যদি তাই হয় , খুব সম্ভবত আপনার প্রয়োজন হতে পারে ডোপামিন ডিটক্স ।
আজকের এই দুনিয়ায় আমাদেরকে বিক্ষপ্ত করার উপাদান এত বিস্তৃত যে আমাদের ফোকাস করার বা লক্ষ্যে মনস্থির করার ক্ষমতা অনেক দুষ্প্রাপ্য বস্তু হয়ে গিয়েছে । মনের অজান্তেই আমরা প্রভাবিত হচ্ছি অথবা অস্থির হয়ে পড়ছি । আমাদের গোল বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য যখন আমাদের মূল কাজে ফোকাস হবার দরকার তখন আমরা প্রায়ই দেখতে পাই অপ্রয়োজনীয় অন্য কাজ করার ইচ্ছা আমাদেরকে পেয়ে বসে । আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেসব করা দরকার তার বদলে আমরা হয় হাঁটতে বেড়িয়ে পড়ি, অথবা কফি নিয়ে বসি ,বা তখনি আমাদের ইমেইলগুলো চেক করবার কথা অথবা ফাইলগুলো সাজানোর কথা মনে পড়ে যায়। আমাদের যা একান্তভাবে সেসময় করা দরকার ছিল সেটা ছাড়া বাকি সব কিছু করাকে আমাদের চমৎকার আইডিয়া বলে মনে হয়।
প্রতিদিন এই একই ধারা চলতে থাকার কারনে আমাদের জন্য যা সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বা আজীবন দেখে আসা স্বপ্ন ছিল সেটি হাত ফসকে যেতে থাকে । আমরা যতটুকুর যোগ্য তার চেয়ে অনেক কম অর্জন করি, যতটুকু দরকার তারচেয়ে অনেক কম পারফর্ম করতে পারি । ভেতর থেকে আমরা এই অবস্থাটা বুঝতে পারি এবং আমাদের আত্মসম্মান ক্ষয়ে যেতে থাকে । ফলশ্রুতিতে আমাদের ভেতরে জন্ম নেয় হতাশা , নিরাশা , উদাসীনতা , হিংসা এমনকি রাগের ।
কিন্তু ব্যপারটা এমন হবার ছিল না ।
ছোট অভ্যাস বড় সাফল্য
আপনার লক্ষ্য যাই হোক না কেন, সেই লক্ষ্যের উন্নয়নের জন্য “ছোট অভ্যাস বড় সাফল্য” বইটি একটি প্রমাণিত কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেয়৷ নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার বইটি এমন কিছু বাস্তবমুখী ব্যবহারিক কৌশলের আলোচনা করে, যা পথ দেখায় কীভাবে ভালো অভ্যাস গঠন করতে হয় আর ত্যাগ করতে হয় খারাপ অভ্যাসকে৷ তাছাড়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভ্যাসকে একত্রিত করার মাধ্যমে কী করে অনেক বড় কিছু অবিস্মরণীয় সাফল্য অর্জন করা যায়, সেটাও বইটির অন্যতম একটি আলোচনার দিক৷
বইটাতে লেখক মানুষের অভ্যাসের জটিল জটিল সমস্যাগুলোর বেশ ভালোভাবে ব্যবচ্ছেদ করেছেন৷ তারপর সেখান থেকে একটা একটা করে সমাধান বের করে এনেছেন৷ যা বেশ বাস্তবমুখী ও সহজভাবে আমাদের জীবনে প্রয়োগ করা যায় ৷ তাছাড়া, তিনি চেষ্টা করেছেন জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, শরীরবিজ্ঞান, নিউরো সাইন্স ইত্যাদির সমন্বয় করে অভ্যাসকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারে ভাগ করে তার থেকে সেরা ফলাফলকে বের করে আনতে৷ ভালো অভ্যাসকে অনিবার্য আর খারাপ অভ্যাসকে চিরতরে অসম্ভব করে দেবার কিছু প্রমাণিত সূত্র দিতে চেয়েছেন তিনি এর মাধ্যমে৷
এছাড়াও বইটাতে বিভিন্ন ছোট ছোট গল্প রয়েছে৷ যেখানে নায়ক হচ্ছেন বিভিন্ন অলিম্পিকজয়ী, পুরষ্কার-সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এমনি ব্যবসায়িক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিও৷ যাদের রূপকথার মতো কিন্তু বাস্তবমুখী গল্প আপনাকে আরো বেশি করে অনুপ্রাণিত করবে৷ তারা কী করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভ্যাসকে একত্রিত করে করে বিরাট বিরাট সাফল্য পেয়েছেন তার পিছনের রহস্যগুলো আপনার কাজে লাগবে দারুণভাবেই৷
দি পাওয়ার অফ ডিসিপ্লিন
আপনি কি আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সপ্তাহ, মাস এমনকি বছরের পর বছর চেষ্টা করছেন কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছেন? আপনি কি সফল হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন কারণ আপনার ব্যর্থ চেষ্টায় আপনি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছেন যে, সাফল্য শুধুমাত্র কিছু মানুষের জন্যই নির্দিষ্ট।
যদি আপনার কোনটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় চিন্তা করবেন না, এখনও আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে! জীবনে কোনোকিছু অর্জন করার পূর্বশর্ত হলো আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি শক্ত ভিত্তি। প্রতিভা, বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, আত্মসমর্থন এবং স্বপ্ন ফলক লক্ষ্য অর্জনের পথে এক একটি অংশ মাত্র। আপনি যদি আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে চান তবে আত্মনিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই।
আত্মনিয়ন্ত্রণ যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আপনাকে আপনার কাজে নিমগ্ন রাখবে এমনকি যখন মনে হচ্ছে আপনি ব্যর্থতা থেকে এক ধাপ দূরে আছেন তখনও। এটি আপনাকে মানসিক দৃঢ়তা দেবে যা আপনাকে আপনার সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে ডিঙিয়ে এবং আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথে সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করতে সাহায্য করবে।
আপনি কেমন বোধ করবেন যদি আমি আপনাকে বলি যে আপনার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণ আপনার আলস্য বা উদ্যমহীনতা নয়, বরং এর প্রকৃত কারণ হলো আপনাকে কখনোই আত্মনিয়ন্ত্রণ অনুশীলন করতে শেখানো হয়নি। মানুষ আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না। ড্রাইভিং বা টেনিস খেলার মতো, এটি এমন একটি দক্ষতা যা আপনি শিখতে পারেন। দি পাওয়ার অফ ডিসিপ্লিন-এ আপনি আত্মনিয়ন্ত্রণ স¤পর্কে সু¯পষ্ট, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাগুলো স¤পর্কে জানতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে:
মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অঞ্চলকে টার্গেট করে কীভাবে আত্মনিয়ন্ত্রণ আয়ত্ত করা যায় :
* নেভি সীলদের আত্মনিয়ন্ত্রণের রহস্য
* জেন বৌদ্ধদের আত্মনিয়ন্ত্রণের রহস্য
কীভাবে কঠোর পরিশ্রমকে উদ্দীপনাময় করা যায় কীভাবে আপনার খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করবেন এবং সফল ব্যক্তিদের অভ্যাস গ্রহণ করবেন আপনার অনুপ্রেরণা শেষ হয়ে গেলেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল এবং আরও অনেক কিছু..
প্রোডাক্টিভ মুসলিম
‘প্রোডাক্টিভ মুসলিম’ একটি আত্মোন্নয়নমূলক বই। বইটির পাতায় পাতায় মুখর হয়ে উঠেছে—আত্ম-জাগরণ, আত্মনির্মাণ ও আত্মবিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে জীবনঘনিষ্ট আলোচনার আসর।
এতে আছে স্রষ্টার দেওয়া অমূল্য উপহার—আমাদের মেধা সময় ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগঠন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং সামাজসেবামূলক কর্মোদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজেকে এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা এবং একনিষ্ঠ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার বাস্তবধর্মী কর্মকৌশল।
লেখক কুরআনের রত্নভান্ডার, নবিজির সুন্নাহর মুক্তো-প্রবাল থেকে শুরু করে Dr John Ratey, Graham Allcott সহ আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান এবং ব্যবসায়িক কর্মকৌশলের অসাধারণ সব তথ্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বইটিতে।
ইসলামের শাশ্বত শিক্ষা এবং আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের মিশেলে রচিত এই বইটিতে যে প্রোডাক্টিভ লাইফ-স্টাইলের মডেল তুলে ধরা হয়েছে, তা একজন মানুষকে পার্থিব জীবনের সাফল্যের শেকড় ছুঁয়ে দিয়ে নিজেকে পরকালীন জীবনের শিখরে পৌঁছে দিতে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাবে।