মেয়ে মেথরের হাত ধরে পালিয়েছে এতে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যা হচ্ছে মেয়ে আবার ফিরে এসেছে। আলী মনসুর এক প্রকার হতাশ হয়ে ঘরের দাওয়ায় বসে আছেন। মা মরা মেয়ে, যখন পালিয়েছে দুঃখ পেলেও এটা ভেবে অন্তত স্বস্তি পেয়েছিলেন যে যাক মেয়ে অন্তত নিজের গতি নিজে করেছে। বাবা হয়ে তো কিছু করতে পারছিলেন না। বরং মেয়ে তাকে মুক্তি দিয়েছে। তাছাড়া মেয়ে বিয়ে দেয়ার খরচের ব্যাপার তো আছেই। সেটা থেকে মুক্তি পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ফলে এলাকাবাসী যে প্রতিদিন উঠতে, বসতে, ঘুরতে, চা খেতে, পুরি খেতে কিংবা কিছু না খেতে খেতেও, ‘মেয়ে মানুষ করতে পারো নাই মনসুর, মানুষ করলে কি আর পালায়, নাকি মনসুর তোমার অন্য ধান্দা আছে? নাকি তুমি মেয়েরে ভাগায়ে দিয়া নতুন আরেকখান বিয়া করতে চাও মনসুর?’ সহ আরও নানা তীর্যক মন্তব্যগুলো সে নির্বিকারে হজম করেছে শুধু এইসব ভেবেই। ছ’মাস কম সময় নয়, এলাকাবাসীও ভুলে গিয়েছিল ব্যাপারটা কিন্তু এখন আবার নতুন উন্সিলা পাওয়া গেল, আবার প্রতিদিন নানান প্রশ্ন-পর্যালোচনা-বিশ্লেষণ।
তহুরাকে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহসও হচ্ছে না। সে এমন কিছু বলবে যেটা হজম করা কঠিন। তহুরা লেবুর শরবত এগিয়ে দেয়, তার চোখে পানি।
‘আব্বা! আমি সংসার করব না’
গ্লাস হাতে নিয়ে তিনি মেয়ের দিকে তাকালেন। গায়ের রং আগের চেয়ে কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। ঠোঁটের নিচের কাটা দাগটাও মনে হয় ছোট হয়ে আসছে। আমড়া গাছ থেকে পড়ে ছোটবেলায় কেটেছিল। আলী মনসুর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সেদিনের সেই মেয়ে একা একা পালিয়ে বিয়ে করে আবার ফিরে এসে বলছে সে সংসার করবে না!
তিনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন,’ ক্যান?’