'পুঁজির' দ্বিতীয় পর্বটিকে প্রকাশনার জন্য গুছিয়ে তৈরি করা, এবং যাতে তা এক দিকে একটি সংবদ্ধ ও যথাসম্ভব সম্পূর্ণ রচনায় পরিণত হয়, এবং অন্য দিকে সেটি একান্তভাবেই তার রচয়িতার কাজের পরিচয়বাহী হয়, তার সম্পাদকের কাজের নয়, এমনভাবে সেটা করা সহজ কাজ ছিল না। লভ্য, বেশির ভাগই টুকরো টুকরো যে বিপুল সংখ্যক লেখা নিয়ে কাজ করতে হয়েছিল, তা এই কাজকে আরও দুরূহ করে তুলেছিল। বড় জোর একটিমাত্র পাণ্ডুলিপি (নং ৪) পুরোপুরি পরিমার্জনা করা হয়েছিল এবং ছাপাখানার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু বৃহত্তর অংশটাই অচল হয়ে গিয়েছিল পরবর্তী পরিমার্জনার দরুন। বিষয়বস্তুর বৃহদংশই ভাষার দিক দিয়ে চূড়ান্তভাবে ঘষামাজা করা হয়নি, যদিও সারবস্তুর দিক দিয়ে বেশির ভাগটাই সম্পূর্ণরূপে বর্ণিত হয়েছিল। মার্কস যে ভাষায় তাঁর সারনির্যাসগুলো তৈরি করতেন, ভাষাটা ছিল সেই রকম: কথ্য ভাষায় ভর্তি অযত্ন শৈলী, প্রায়শই স্থল ব্যঙ্গাত্মক অভিব্যক্তি ও কথা তার মাঝে মাঝে ছড়ানো ইংরেজি আর ফরাসি পারিভাষিক শব্দ অথবা ইংরেজি ভাষায় গোটা একেকটা বাক্য এমনকি পৃষ্ঠাও।
রচয়িতার মস্তিষ্কে যখন যেমন চিন্তা দানা বেধেছিল সেইভাবে সেগুলো লিখে রাখা হয়েছিল। যুক্তির কোনো কোনো অংশ পুরোপুরি আলোচিত হতো, সমান গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য অংশের শব্দে ইঙ্গিতই করা হতো। দৃষ্টান্তের জন্য তথ্যমূলক উপকরণ সংগৃহীত হতো, কিন্তু কদাচিৎ বিন্যস্ত করা হতো, পুরোপুরি বর্ণনা করা তো হতই না। অধ্যায়গুলোর উপসংহারে, পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার জন্য লেখকের ব্যগ্রতাহেতু, প্রায়শই থাকত কয়েকটি অসংলগ্ন বাক্য, এখানে যেটুকু অসম্পূর্ণ রাখা হয়েছে পরে তার আরও বিকাশ ঘটানোর আভাষ হিসেবে।