বাইরের ঘটনা ও লক্ষণগুলো মোটেই অস্পষ্ট নয়। খুবই জাজ্বল্যমান। কিন্তু ভেতরের ব্যাপারটাকে না দেখলে বাইরের কোলাহল ও দৌরাত্ম্যকে বোঝা যায় না। ভেতরের ব্যাপার হচ্ছে পুঁজিবাদের আধিপত্য,আর বৈষয়িক ও আদর্শিক তৎপরতা। এই বইতে ভেতরের ওই ব্যাপারটাকেই চিহ্নিত করবার চেষ্টা হয়েছে বাইরের ঘটনা ও লক্ষণগুলোর সাহায্যে। পুঁজিবাদের অভ্যুদয় ছিল একটি বৈপ্লবিক ঘটনা। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে ব্যক্তিমানুষকে মুক্তিদানের এবং সৃষ্টিশীলতার পথগুলোকে মুক্ত করে দেবার। কাজটা সে শুরু করেছিল,কিন্তু কিছু দূর গিয়ে থেমে গেছে। কারণ হচ্ছে সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা। সেটা আগেও ছিল,পুঁজিবাদ তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ ভোগলিপ্সা। দেখা দিয়েছে মানুষের সঙ্গে মানুষের বিচ্ছিন্নতা। প্রবল হয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে শত্রুতা। প্রবন্ধের এই সঙ্কলনে পুঁজিবাদের দুঃশাসনের যে বাস্তবতা সেটা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মুক্তির পথ যে সংস্কারে নেই,রয়েছে সামাজিক বিপ্লবে সেই সত্যটাও নানাভাবে উঠে এসেছে।