রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়ার চিঠি পুনর্পাঠ আমি প্রতিদিনই ভারতবর্ষের সঙ্গে এখানকার তুলনা করে দেখি আর ভাবি,কী হয়েছে আর কী হতে পারত।― রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,রাশিয়ার চিঠি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩০ সালে ১১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হ্যারি টিম্বার্স,কুমারী মার্গারেট রোটেনস্টাইন,সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর,আরিয়াম উইলিয়ামস ও অমিয় চক্রবর্তী সহযোগে রাশিয়া ভ্রমণ করেন। সে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে রাশিয়ার চিঠি প্রণীত হয়েছিল। তাঁর কবুলতি অনুযায়ী,রাশিয়া ভ্রমণের আগে বলশেভিকদের সম্বন্ধে তাঁর ‘মনে কোন স্পষ্ট ধারণা ছিল না্’। ধারণা ছিল,রুশরা হয়তো ‘জবরদস্তির সাধনা করছে। কিন্তু বিস্ময়ের সাথে তিনি বলেছেন,‘রাশিয়ায়…না এলে এ জন্মের তীর্থদর্শন অত্যন্ত অসমাপ্ত থাকত। কী কঠিন কথা! সত্যিই তো,তিনি যদি রাশিয়া ভ্রমণ করে রাশিয়ার চিঠি না লিখতেন তবে আমরা তাঁর এমন সমাজতন্ত্র-প্রিয় চিন্তার হদিস পেতাম না। রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র কায়েম হয়েছিল,তা যে মহান এবং কাক্সিক্ষত,এই প্রামাণ্য দলিলটিও পেতাম না। এর আগে কয়েকবার রাশিয়া ভ্রমণের আমন্ত্রণ পেলেও ইংরেজ বন্ধুদের নিষেধের কারণে আসা হয়নি। তারা জানতেন,এখানে এলে তিনি সমাজতন্ত্রের অনেককিছুর পক্ষে এবং সা¤্রাজ্যবাদী ইংরেজের অনেককিছুর বিপক্ষে লিখবেন। ঠিকই তিনি লিখেছেন,দয়া এবং দায়িত্ব কোনোটাই পালন করেননি ইংরেজরা। তারা নিরন্ন ভারতের অন্নে পরিপুষ্ট হয়েছেন,‘এক-শো বছর হয়ে গেল; না পেলুম শিক্ষা,না পেলুম স্বাস্থ্য,না পেলুম সম্পদ।’ অন্যদিকে রাশিয়াতে এসে যা দেখেছেন তার সাথে অন্যান্য দেশের ‘একেবারে মূলে প্রভেদ।’ সমাজের নিচতলার মানুষেরা ‘সবচেয়ে কম খেয়ে,কম পরে,কম শিখে,বাকি সকলের পরিচর্যা করে’,তারা ‘সভ্যতার পিলসুজ’ অথচ তাদের অসম্মান বেশি। একসময় তাঁর মনে হতো,এ চিরকালের বিধান। কাজেই যারা নিচে থাকবে ‘যথাসম্ভব তাদের শিক্ষা স্বাস্থ্য সুখ সুবিধার জন্য চেষ্টা করা উচিত।’ কিন্তু রাশিয়া ভ্রমণ করে তাঁর চিন্তা বদলে গেছে। ১৯১৭ সালে জার শাসনামলে রাশিয়া ছিল দরিদ্র একটি দেশ,অনেক পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়া। এশিয়া-ইউরোপ জুড়ে বিশাল রুশ ভূখÐ Ñ যেমন মানুষের তেমন প্রকৃতির বৈচিত্রপূর্ণ অবস্থা সমস্যার গভীরতাকে বৃদ্ধি করেছে। ভারতের আর রাশিয়ার সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুদিন আগেও একরকম ছিল। অথচ এখন এরা অনেক উন্নতি করেছে। তিনি আফসোস করেছেন,ভারতেও যদি এমন করা যেতো! কী করে এ পরিবর্তন সম্ভব হলো? এখানে একেবারে গোড়া থেকে সমস্যার সমাধান করবার চেষ্টা চলছে। শিক্ষা,কৃষি এবং য