রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন গৌতম বুদ্ধই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। অনেকে বুদ্ধকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করলেও রবীন্দ্রনাথ তাকে মানুষজ্ঞানেই ভক্তি করেছেন। তাঁর বিবেচনায় গৌতম বুদ্ধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কী কারণে গ্রাহ্য এসব প্রশ্নর জবাব খোঁজার চেষ্টা রয়েছে এই গ্রন্থে। রবীন্দ্রনাথের চেতনায় বৌদ্ধসংস্কৃতি কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল, এই সংস্কৃতির কী কী অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছিল তাঁর চেতনায়, তার অনপুঙ্খ বিবরণ দিতে চেষ্টা করা হয়েছে নির্মোহ আয়োজনে।
রবীন্দ্রসাহিত্যে বৌদ্ধপ্রসঙ্গ কতটুকু প্রযুক্ত হয়েছে তারও অনুসন্ধান রয়েছে এখানে। এই সকল প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে রবীন্দ্রসাহিত্যে বৌদ্ধআখ্যান কীভাবে এসেছে, রবীন্দ্রনাথ কতটা গ্রহণ করেছেন, কতটা নবনির্মাণ করেছে, তারই ভাষ্য এই গ্রন্থ। কিছু দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র এই গ্রন্থের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। রবীন্দ্রনাথের প্রতি গবেষকের ব্যাক্তিগত অনুরাগ এবং অধ্যয়নের প্রতিশ্রুতির স্মারক এই গ্রন্থ। এটি যে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগ্রন্থ সেই দাবি না করেও বলা যায় যে, এই গ্রন্থে বাংলাদেশের রবীন্দ্রগবেষণায় একটি নতুন দৃষ্টিকোণের প্রকাশ ঘটেছে। বইটি পাঠকপ্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করি।