‘রাধাচূড়ার অবৈতনিক প্রেম’র কবি শাওন মুতাইত। তাকে আমি যতটা কবি হিসেবে চিনেছি তার থেকেও সম্ভবত বেশি জেনেছি ব্যক্তিগত শাওন মুতাইকে। তাঁর দ্বিতীয় কবিতার বই ‘রেড লাইট অথবা জোনাকি’ প্রকাশিত হবে এই বইমেলায়। যাঁরা তাঁর প্রথম কবিতার বই পড়েছেন সেই অভিজ্ঞতায় এই বই আলাদা এবং আমার ব্যক্তিগত আবিষ্কারের থেকেও পুরোপুরি আলাদা। আলাদা কারণ তাঁর প্রথম বইয়ে যেমন শরীরের প্রেম ছিল তেমনি সমান্তরালে ছিল নদীর প্রতি প্রেম, যেমন ছিল শৈশবে হারিয়ে যাওয়া কিশোরীর পায়ের নূপুরের গল্প তেমনি ছিল মোড়ের মাথার চায়ের দোকানের গল্প। ‘রেড লাইট অথবা জোনাকি’ নামটা শুনে প্রথমেই মাথায় ঘুরছিল তাঁর বোহেমিয়ান জীবনের কথা- সেই সময়ের চরিত্রগুলোর কথা যাঁরা উত্তাপ নিয়ে কাছে এসেছিল বৃষ্টির সন্ধ্যায়। কবিতার ভাষায়-
“তোমার কাজল চোখে
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে আমার আঙিনায়
আমি নেশাতুর হয়ে
পান করি সুন্দরের অমরত্ব!”
আমরা গল্প উপন্যাস তো বটেই আজকাল কবিতায়ও কেচ্ছা শুনতে আরামবোধ করি। পাণ্ডুলিপি পড়ে আরামের সেই জায়গা এখন পুরনো ক্ষত থেকে নতুন করে রক্তক্ষরণের পথে- এখনো সেই পুরনো প্রশ্ন নতুন করে মাথায় ঘুরপাক খায়, “আলো আসে যাঁদের ঘরে তাঁদের যে কেন চোখ থাকে না! আর যাঁদের চোখ থাকে তাঁদের চোখ ভোরের আলো দেখার আগেই কেন যেন মরে যায়!”
— বিসর্জন রাজীব