দুই যুগের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে আছি। এই থাকাটাকে কী বলা যায়? একটা জার্নি বলতে পারি। এ এক আনন্দ-বেদনা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সঙ্গ-নিঃসঙ্গতার হাত ধরাধরি করে বহুমাত্রিক জার্নি যেন। কখনো আনন্দে আপ্লুত হয়েছি, আবার কখনো বিদেশ জীবনের ক্রমাগত ছুটে চলা, কখনো আস্তিত্বিক প্রশ্ন- দেশে ফিরে যাবো কি যাবো না এবং এর থেকে সৃষ্ট একটা অনিশ্চিয়তা যা এক সময় শূন্যতাবোধে পরিণত হয়েছে- তা আমাকে করেছে রক্তাক্ত (রক্তপরদেশনামা)। নিজের দেশ থেকে দূরে (আসলেই কি দূরে?) থেকে, আয়নায় নিজের শরীর ও মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছি সেখানে পরিবর্তন এসেছে, সাথে সাথে ভেতরটাও অনেক পালটে গেছে। ভেতর ও বাহির পালটানোর কারণে আমার কবিতা-জীবন যাপন আজ ভিন্ন এক রূপ ধারণ করেছে। গতকাল যা বিশ্বাস করতাম এখন তা আর করি না, যা একদিন মেনে চলতাম না, আজ তাকে কোলে তুলে আদর করি। মাতৃভূমি থেকে দূরে আছি সত্য, কিন্তু মনে হয়ে শিকড়ের প্রতি আমার আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই তো আমার কবিতার ঝাঁপি খুলে দেখা যায় হারিয়ে যাওয়া দেশ, শৈশবের স্মৃতি, মানুষের মুখ, বাঙলার প্রকৃতি, মা ও মাতৃভাষার প্রতি মায়া এবং টান। সাথে সাথে বিদেশ যাকে দ্বিতীয় স্বদেশ বলি- তার আলো, বাতাস, তার রূপ, রঙ, গন্ধ এবং তার জীবনধারাও কবিতায় মিশে আছে। সনেট আমার আরাধ্য ফর্ম নয়, আমি সচারাচর অক্ষর গুণে গুণে ছন্দবদ্ধ কবিতা লিখি না। তবুও এক সময় ভাবনাগুলো এমন ছন্দবদ্ধভাবে হাজির হয়েছিল যে সনেট আকারেই গেঁথে ফেলেছি। নাম দিয়েছি- রক্তপরদেশনামা।