রতির রাতে ঘুম হয়নি। সারারাত গোলাগুলি। হঠাৎ কেন গোলাগুলি রতি তা বোঝে না। ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ। পাকবাহিনীর অতর্কিত হামলার তান্ডবে হিম হয়ে গেছে নগরী। চারিদিকে সুচিস্নিগ্ধ বাতাসে বারুদের গন্ধ। ওদের পাশেই বস্তি ঘর সেগুলোতেই গোলাগুলি হয়েছে। মা বোনের আর্ত- চিৎকারে প্রকম্পিত ঢাকা। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের শত শত পুলিশকে নির্বিচারে মেরেছে। রতি সুন্দর স্বপ্ন দেখছিল ঘুমের মধ্যে। সে মেঘের পিঠে চড়ে চাঁদের দেশে যাচ্ছে। চাঁদ বুড়ি তাকে দাওয়াত করেছে। রতির আর দাওয়াত খাওয়া হলো না। রতির পুরো নাম আরতি। বাবা-মা আদর করে ডাকে রতি। ২৬শে মার্চ সকাল বেলা। থমথমে পুরো ঢাকা। বাসার পাশে যুনুব আলীর দোকান। সেও দোকান খোলেনি। ২৬শে মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে। গ্রেপ্তারের আগে তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। পাকিস্তানিরা কোনো মতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। ক্ষমতার মমতায় পাক বাহিনী অন্ধ। তারা বাঙালিদের দাসত্বের শৃঙ্খল পরিয়ে রাখতে চায়। রতির এসব ভালো লাগে না।