সুফি ঐতিহ্য ও ঔচিত্যকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের নিখুঁত ইতিহাস রচনা করা মোটেই সম্ভব নয়। এই অঞ্চলের সঠিক ইতিহাস চর্চার জন্য সুফি ঐতিহ্যকে বোঝা খুবই জরুরি। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, বাংলা ভাষায় সুফি ঐতিহ্য বা তাসাওউফের ইতিহাসকে বোঝার প্রচেষ্টা নিতান্তই অসম্পূর্ণ ও অপ্রতুল। বাংলা ভাষায় সুফি ঐতিহ্যকে বোঝার প্রভাবশালী প্রবণতাটি হলো, সুফিবাদকে ইসলামের (অবশ্যই পশ্চিম কর্তৃক আরোপিত ইসলাম) বাইরের কোনো সুকুমারচর্চা হিসেবে দেখা।
শরিয়া-পরিচালিত ইসলাম ও সুফি-ইসলামের মাঝে বিস্তর ফারাক কল্পনা করতে এই ধারার লোকেরা বেশ সুখ বোধ করেন। আরেকটি প্রবণতার হদিস মেলে—যারা মনে করেন, সুফিবাদ চর্চা মানে অনৈসলামিক কাজ ও বে-শরা প্রেমচর্চা করা এবং তাসাওউফের সুদীর্ঘ পরম্পরায় কোন বিষয়কে কিভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার তোয়াক্কা না করে নিজের মনমতো ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠা করা। প্রকৃতঅর্থে পরম্পরাহীনভাবে কোনো জ্ঞানকেই নিখুঁতভাবে ধারণ ও লালন করা যায় না।