বনে পাহাড়ে
একাই চলেছি। এ পথে কখানো আসিনি, কোথায় কী আছে জানিনে। ভালুক বেরোবে না তো? শুকনো শালপাতার ওপর খসখস শব্দ হলেই ভাবছি এইবার বোধ হয় ভালুকের দর্শন লাভ ঘটল। আরও এগিয়ে চলেছিএকটা ছোট্ট পাহাড়ি নদী ঝিরঝির করে বয়ে চলেছে পথের ওপর দিয়ে। হাঁটুখানেক জল, এমনি পার হয়ে ওপারের পাড়ে উঠলাম-উঁচু কাঁকরমাটির পাড়।
হ য ব র ল
হযবরল হল সুকুমার রায় রচিত একটি রম্য রচনা। যা প্রকাশ হয়েছিল ১৯২১ সালে।
গল্পটা শুরু হয় একটা বাচ্চা ছেলের ঘুম থেকে ওঠার মধ্য দিয়ে। গরমকালে ঘাম মোছবার জন্য রুমালটা তুলতে গিয়ে সে দেখে তার রুমাল একটা বেড়াল হয়ে গেছে। বেড়ালটার সাথে সে গল্প করতে শুরু করে এবং বুঝতে পারে বেড়ালটা উল্টোপাল্টা কথা বলছে। পরে ছেলেটার দেখা হয় কাকেশ্বর নামক দাঁড়কাক সাথে যে বিদঘুটে হিসাব করে। এরপরে একে একে উদো আর বুদো, হিজিবিজবিজ, ব্যাকরণ শিং, নেড়া, সজারু, প্যাঁচা ইত্যাদি আরও অনেক চরিত্রের অনুপ্রবেশ ঘটে আর বাড়তে থাকে বিশৃঙ্খলা। গল্পের চড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে বাচ্চা ছেলেটির ঘুম থেকে ওঠার মধ্য দিয়ে।
পাগলা দাশু
একবার ছুটির পরে দাশু অদ্ভুত এক বাক্স বগলে লইয়া ক্লাসে হাজির হইল। মাস্টার মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি দাশু, ও বাক্সের মধ্যে কী এনেছ?” দাশু বলিল, ‘আজ্ঞে, আমার জিনিসপত্র।” জিনিসপত্রটা কীরূপ হইতে পারে, এই লইয়া আমাদের মধ্যে বেশ একটা তর্ক হইয়া গেল। দাশুর সঙ্গে বই, খাতা, পেনসিল, ছুরি সবই তো আছে, তবে আবার জিনিসপত্র কিরে বাপু? দাশুকে জিজ্ঞাসা করিলাম, সে সোজাসুজি কোনো উত্তর না দিয়া বাক্সটিকে আঁকড়াইয়া ধরিল এবং বলিল, ‘খবরদার, আমার বাক্স তোমরা কেউ ঘেঁটো না।” তাহার পর চাবি দিয়া বাক্সটাকে একটুখানি ফাঁক করিয়া, সে তাহার ভিতর দিয়া কী যেন দেখিয়া লইল, এবং ‘ঠিক আছে’ বলিয়া গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িয়া বিড়বিড় করিয়া হিসাব করিতে লাগিল। আমি একটুখানি দেখিবার জন্য উঁকি মারিতে গিয়াছিলাম-অমনি পাগলা মহা ব্যস্ত হইয়া তাড়াতাড়ি চাবি ঘুরাইয়া বাক্স বন্ধ করিয়া ফেলিল
অপুর কথা
জ্যোৎস্না উঠিয়াছিল। নোনাগাঙের জল চকচক করিতেছিল। হু হু হাওয়ায় চরের কাশফুলের রাশি, আকাশ, জ্যোৎস্না মোহনায় জল একাকার করিয়া উড়িতেছিল। হঠাৎ কীসের শব্দ শুনিয়া দু-একজন মাঝি রন্ধন ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়া চারিদিকে চাহিয়া দেখিতে লাগিল। কাশঝোপের আড়ালে যেন একটা হটপট শব্দ, একটা ভয়ার্ত কণ্ঠ একবার অস্ফুট চিৎকার করিয়া উঠিয়াই তখনই থামিয়া যাইবার শব্দ। কৌত‚হলী মাঝিরা ব্যাপার কী দেখিবার জন্য কাশঝোপের আড়ালটা পার হইতে না হইতে কী যেন একটা হুড়–ম করিয়া চর হইতে জলে ডুব দিল। চরের সেদিকটা জনহীন-কিছু কাহারও চোখে পড়িল না।
ছোট্ট রাজকুমার
কাহিনিকার বৈমানিক। তাঁর বিমান ভেঙে পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে। সঙ্গে না আছে মিস্ত্রি, না আছে যাত্রী। তিনি এক! সঙ্গে যা পানি তাতে বড়ো জোর এক সপ্তাহ কাটবে। কী করা? দৈবাৎ দেখা হয়ে গেল ছোট্ট রাজকুমারের সঙ্গে। সে এসেছে সুদূরের এক গ্রহ থেকে। ছোট্ট একটা গ্রহ, একটা বাড়ির চেয়ে বড়ো কিছু না। শুরু হলো বৈমানিক ও রাজকুমারের বন্ধুত্ব। একটু-একটু করে কতো কিছুই যে জানা হয়ে গেল বৈমানিকের। একটু-একটু করে গড়ে উঠল আধুনিক যুগের এক সেরা রূপকথা। অপরূপ রূপকথা। ছোটোদের জন্য লেখা, কিন্তু বড়োরা পড়েও মুগ্ধ হবে।
বিপুলা এ পৃথিবী
‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি। দেশে দেশে কত—না নগর রাজধানী মানুষের কত কীর্তি,কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, কত—না অজানা জীব,কত—না অপরিচিত তরু রয়ে গেল অগোচরে।’ আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে যে কবিগুরুর এ কথন শুধুমাত্র তৎকালীন সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ যখন এক দেশে থেকে অন্যদেশে যাতায়াত হতো বহুদিন ধরে নৌপথে,ভ্রমণে একবার কেউ বেরোলে পরের প্রজন্ম না ফেরা পর্যন্ত দেখা মিলত না এমন। এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। ইদানীং ডিজিটাল মিডিয়ার কল্যাণে দূর—দূরান্তের দেশ—বিদেশের অনেক চমকপ্রদ ঘটনা খুব সহজেই জানা যায় বটে; টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বা ডিসকভারি দেখে অরণ্য হোক বা সমুদ্রসৈকত কিংবা গ্রেট বেরিয়ার রীফ—এ খেলা করা ক্লাউন ফিশ; মনে হয় পুরো বিশ্বটাই যেন হাতের মুঠোয়। তবে তাতে গহীন বনে হঠাৎ গা ঘেঁষে চলে যাওয়া বিষাক্ত সাপের হিসহিস শব্দ শোনার ভয়ঙ্কর অনুভুতি,কিং অব দ্য জাঙ্গলের মুখোমুখি দাঁড়ানো শিকারির বুকের ধুকপুকোনি,মরুভূমির গণগণে রোদের দিকহারা বেদুইনের উন্মাদ হতাশার কূলকিনারা নির্ণয় করা যায় না। …..