তখন আমি সবেমাত্র পাঠশালায় ঢুকেছি।
ইস্কুল ছিলো ফুফুদের গাঁয়-আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় মাইল। হেমন্তে আমরা ইস্কুলে যাই হেঁটে-বন-জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। আঁকা-বাঁকা পথ বেয়ে ছোটাছুটি করে ইস্কুলে যেতে কী ভালোই না লাগতো! বর্ষায় মাঠ-ঘাট ডুবে যেতো, বড়ো বড়ো ঢেউ উঠতো দু-গাঁয়ের মাঝে। ঢেউ-এ আছাড় খেতে খেতে এগোতো আমাদের ছোট্ট নৌকাটা! আর-সব ছেলেমেয়েদের সাথে ইস্কুল করে প্রায়ই ফুফুদের বাড়ি হয়ে আসি। মাঝে মাঝে ফুফুর কাছে থেকে যাই।
একদিন ফুফুদের বাড়ি গিয়ে আটকা পড়ে গেলাম, ফুফু কিছুতেই ছাড়লেন না। শেলেট-পেন্সিল আর বর্ণবোধের বইখানি যত্ন করে তাকের উপর রেখে দিলেন, তারপর চীনামাটির বর্তনে দুধ-দই দিয়ে আমাকে খেতে দিলেন।