বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ শাহজাদপুর। সমৃদ্ধির ললাট অলঙ্করণে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে এ অঞ্চরে মানুষের প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে আসা মৌখিক ধারার সাহিত্য। যে সাহিত্য সুশীল সমাজে লোকসাহিত্য অভিধায় অভিহিত। টুনটুনি পাখি, আটকুঁড়ো রাজা, বোকা জুলা, চতুর শিয়ালের কিচ্ছা-কাহিনী যা শাহজাদপুরের মানুষের কাছে শাস্ত্র বা হাস্তোর নামে সুপরিচিত তাও যে সাহিত্য পদবাচ্য হতে পারে এমন ধারণা শুধু লোকসমাজেরই নয়-অনেক শিক্ষিত মানুষের কাছেও অজ্ঞাত। অথচ এগুলোই হচ্ছে লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম ধারা। এখনও এ অঞ্চলের প্রবীণদের স্মৃতির ভাণ্ডারে কত যে বিচিত্র প্রকারের কিচ্ছা-কাহিনী ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। অতঃপর আসে গ্রাম্য কবিদের রচিত পদ্যবিশেষ লোকছড়ার কথা। শিশুর চোখে ঘুম নামাতে, শিশুকে দুধ খাওয়াতে, শিশুকে গোসল করাতে, হাঁটা শেখাতে মা কত যে ছড়া কেটে থাকে তারও হিসেব নেই। শিশুর কাছে শায়িত সান্ধ্যকালীন মায়ের কণ্ঠে যখন শুনতে পাই-