রঙিন উপাসনা
একটি হিন্দু ছেলে গণেশ যার নাম, মিশনারিদের ফাঁদে পড়ে সে হয়ে যায় জোসেফ। তারপর ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম হয়ে তার নাম হয় মুহাম্মদ।
‘রঙিন উপাসনা’ এমন একটি উপন্যাস, যেখানে আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকা খ্রিষ্টান মিশনারিদের কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরা হয়েছে সুনিপুণ গল্পের মাধ্যমে।
কীভাবে মিশনারিরা এই দেশে কাজ করছে, প্রভাবিত করছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে, মসজিদ-মাদরাসাগুলোতে গিয়ে তারা কী করছে, এই বইতে সেই বিবরণ লেখা হয়েছে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে।
এই বইতে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনা দেখব গল্পের নায়ক মুহাম্মদের মাধ্যমে। আমরা দেখব, কী করে এখনো বিশ্বে চলমান আছে ক্রুসেড যুদ্ধ এবং তার কবলে পড়ে আমরা কত দ্রুত ঈমান হারাচ্ছি। আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি আর তারুণ্য কীভাবে ধ্বংস হচ্ছে একের পর এক।
‘বাংলায় বাজে গির্জার বাঁশি’র পর ‘রঙিন উপাসনা’ খ্রিষ্টান মিশনারি বিষয়ে ওমর আলী আশরাফের নতুন গ্রন্থনা। নিজেদের ঈমান, দেশ ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে এ দুটি বই অবশ্যই পড়া উচিত।
.
রঙিন উপাসনা
[খ্রিষ্টান মিশনারি বিষয়ক ইতিহাস ও সত্যাশ্রিত উপন্যাস]
মায়ের শেষ ইচ্ছা
‘মায়ের শেষ ইচ্ছা’ মূলত একজন মহিয়সীর গল্প। যিনি শেষরাতের সিজদায় একজন সন্তানের জন্য নিয়মিত কাঁদেন। দীর্ঘ দিন সন্তানহীন থাকার পর স্রষ্টা যখন তার দিকে মুখ তুলে তাকালেন, তখন তিনি আবারও সিজদায় ভেঙে পড়েন শুকরিয়া জানাতে। আগেও কেঁদেছেন সন্তানের জন্য—কিন্তু সে কান্না ছিলো বেদনার; আর আজকের কান্না অন্যরকম, এ অশ্রু বড় সুখের, এ অশ্রু কৃতজ্ঞতার।
.
তারপর একদিন চির আকাঙ্ক্ষিত শিশুটি পৃথিবীতে আসে। বাবা-মা আদর করে তার নাম রাখেন আলিফ। সেই আলিফ মাদরাসায় ভর্তি হয়ে তার কৈশোর, তারুণ্য পেরিয়ে যাবার গল্পটাই উপন্যাসে মুখ্য হয়ে উঠেছে যদিও, কিন্তু ক্লাইমেক্স হলো সে একদিন হারিয়ে যাবে স্বপ্নের এক জগতে। সে জগৎ আধিভৌতিক এবং তার হারিয়ে যাবার পর মায়ের যে আকুতি, তা নিয়েই মুলত উপন্যাসের মুল টেক্সট।
.
সন্তান হারিয়ে যাবার পর আমাদের সব মায়েদেরই বিভিন্ন রকম আকুতি ও বেদনা থাকে, অনেক হতাশা এসে তাদের জাপটে ধরে। জীবনের সেই সন্ধিক্ষণে একজন আদর্শ মায়ের শেষ আকুতিগুলো কেমন হয় আর মায়েরা কীভাবে সেসব সয়ে যান—এইসব বেদনার আখ্যান নিয়েই মূলত রচিত হয়েছে ‘মায়ের শেষ ইচ্ছা’।
.
এছাড়াও একটা সুন্দর আটপৌরে গল্পের ভেতর দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কয়েকটি পরিবারের সুখ-দুখ, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের গল্প। সেইসাথে মিষ্টি একটা প্রেমের গল্পও বইপাঠ সুখকর করে তুলবে। মা ও সন্তানের পবিত্র ভালোবাসা ও বেদনার জীবনকে ঘিরে থাকে অসংখ্য গল্প। প্রিয় পাঠক, সেইসব গল্পেরই একটি হলো ‘মায়ের শেষ ইচ্ছা।’
গুজারিশ
মানুষের জীবনে, স্মৃতিতে এমনও কোনো ঘটনা থাকে, যা তাকে সারা জীবনের জন্য অর্ধমৃত ও আতঙ্কিত করে রাখে। আমরা হয়তো জানি অথবা জানি না; কিংবা জেনেও না জানার ভান করি—আঙুল তুলে চুপ করিয়ে দেই অভিযোগকারীকে, যা মানুষটাকে সারা জীবনের জন্য মানসিকভাবে পঙ্গু করে রাখে।
নানামুখী নদীর উপর দিয়ে বয়ে গেলেও এই বইয়ের উৎস, তেমনি তিক্ত এক গল্প। পাঠকের সামনে হয়তো খুলে যাবে স্মৃতির দরজা; না হলেও পাঠপরবর্তী অনুভূতিতে সে আগলে রাখবে তার নিকটজন ও স্বজনকে। চোখ-কান খোলা রাখবে, যাতে কোনো শিশু-কিশোরের জীবন তিক্ত না হয়ে ওঠে। এটাই পাঠকের কাছে নিবেদন—গুজারিশ।