সুরা ফাতেহা এই সুরা মক্কা শরিফে অবতীর্ণ হইয়াছে। ইহাতে ৭টি আয়াত,২৫টি শব্দ,১২৩টি অক্ষর ও ১টি রুকু। ইহার অপর নাম ‘সাবাউল মাসানী’। ‘সাবা’ অর্থ সাত; ‘মাসানী’ অর্থ পুনঃপুন। ফাতেহা – উদ্ঘাটিকা। এই ‘সুরা’ দিয়াই পবিত্র কোর-আন শরিফের আরম্ভ। এইজন্য এই সুরার নাম ‘ফাতেহা’। ইহা কোর-আনের শেষ খণ্ড আমপারায় নাই,ইহা কোর-আন শরিফের প্রথম খণ্ডের প্রথম ‘সুরা’। নামাজ,বন্দেগী,প্রার্থনা প্রভৃতি সকল পবিত্র কাজেই সুরা ফাতেহার প্রয়োজন হয় বলিয়া আমপারার সঙ্গে ইহার অনুবাদ দেওয়া হইল। শানে-নজুল–(অবতীর্ণ হইবার কারণ)—একদা হজরত মোহাম্মদ (দঃ) মক্কার প্রান্তর অতিক্রম করিবার সময় দৈববাণী শুনিতে পাইলেন,মোহাম্মদ! আমি স্বর্গীয় দূত জেব্রাইল,আপনি পয়গম্বর,আমি শপথ করিতেছি–আল্লাহ্ ভিন্ন আর কোন উপাস্য নাই,মোহাম্মদ (দ.) আল্লাহ্র রসুল (তত্ত্ববাহক)। আপনি বলুন,আলহামদোলিল্লাহ্—সকল প্রশংসাই বিশ্বপতি আল্লার,ইত্যাদি। (–তফসীরে আজিজী ও তফসীরে মাজহারী) সুরা নাস মদিনা শরীফে অবতীর্ণ; ইহাতে ৬টি আয়াত,২০টি শব্দ,৮১টি অক্ষর ও ১টি রুকু আছে। ‘নাস’ অর্থ মানুষ। (কোর-আন শরিফের মোট ১১৪টি সুরার মধ্যে এইটিই শেষ সুরা)। সুরা ফলক মদিনা শরিফে অবতীর্ণ; ইহাতে ৫টি আয়াত,২৩টি শব্দ,৭৩টি অক্ষর ও ১টি রুকু। ‘ফলক’ – উষা,প্রাতঃকাল। ইহা কোর-আনের ধারাবাহিক ১১৩ নং সুরা। শানে-নজুল–মদিনা শরীফের অধিবাসী লবিদ নামক একজন ইহুদীর কয়েকটি কন্যা ছিল। তাহারা হজরত নবী করিমের মাথার কয়েকটি চুল ও চিরুনির কয়েকটি দাঁতের উপর জাদুমন্ত্র পাঠ করিয়া এগারোটি গ্রন্থি দিয়াছিল এবং তাহা এক একটি খোর্মা মুকুলের মধ্যে রাখিয়া ‘যোরআন’ নামক কূপের তলদেশস্থ প্রস্তরের নীচে স্থাপন করিয়াছিল। এই জাদুর দরুন হজরতের শরীর এরূপ অসুস্থ হইয়াছিল যে,তিনি যে কাজ করেন নাই তাহাও করিয়াছেন বলিয়া কখনও কখনও তাঁহার ধারণা হইত। হজরত ছয় মাস কাল যাবৎ এরূপ ব্যাধিগ্রস্ত ছিলেন। এক রাত্রে তিনি স্বপ্নে জানিতে পারিলেন তাঁহার ওই পীড়ার কারণ কী। প্রাতে হজরত আলী,আম্মার ও জোবায়েরকে ‘যোরআন’ কূপের দিকে প্রেরণ করেন। তাঁহারা উক্ত কূপের তলদেশ হইতে ওইসব দ্রব্য তুলিয়া হজরতের নিকট নিয়া হাজির করেন। তখন জিব্রাইল ‘ফলক’ ও ‘নাস’ এই দুই সুরা সহ অবতরণ করেন। এই দুই সুরায় এগারোটি আয়াত আছে। তিনি এক এক করিয়া ক্রমান্বয়ে এগারোটি আয়াত পাঠ করিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এক এক করিয়া উহার এগারোটি গ্রন্থি খুলিয়া গেল। অতঃপর হজরত সম্পূর্ণরূপে রোগ হইতে মুক্তি লাভ করিলেন। (–এমাম এবনে কছির,জালালায়ন,কবির।) এস্