পাগলা গারদ থেকে মুক্তি পাওয়া সূর্য নামের একজন যুবক ঈশ্বরের খোঁজে একদিন বাইজি মহলে আসে। বাইজিকে নাচাতে ঘুঙুরের বুকে তখন দ্রোহের আগুন। শতাব্দীর বিচ্ছেদ ভুলে যেতে বাদ্যযন্ত্রগুলো বেজে চলেছে একটানা। বাইজিকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা দেখে সূর্য বাইজিকে ঈশ্বরের আরেকরূপ ভেবে বসে। কাহিনির ঘটনাচক্রে ধর্মগুরুর রক্ষিতা হয়েও কুমারীত্ব হারানো মেয়েটি একদিন আত্মহত্যা করে। বাক্য সিদ্ধ একজন মহাপুরুষ মেয়েটির মৃত্যুর জন্য ধর্মগুরু নয়, সূর্যকেই দায়ী করেন। আত্মহত্যার পূর্বেই নাকি মেয়েটির নাভীমূল থেকে ঈশ্বর আত্মাটি কুড়িয়ে নিয়ে সৃষ্টি করেন একটি ছাইতান বৃক্ষ। যে বৃক্ষ থেকে কোনো কোনো রাতে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুদের কান্নার শব্দ শোনা যায়। নানান প্রজাতির পাখিরা প্রতিদিন এই বৃক্ষ থেকে উড়ে যায়। পাখিদের উড়ে যাবার এই নিগূঢ়তত্ত্ব মহাপুরুষের কাছে জানতে গিয়ে সূর্য অন্ধ হয়ে যায়।
সনোজ কুণ্ডুর প্রায় প্রতিটি গল্প বহুরৈখিক নির্মাণশৈলীর উদাহরণ। যার সৃষ্টি বলয়ে বার বার ঝলমলিয়ে উঠেছে জাদুবাস্তবতা কিংবা পরাবাস্তবতার রহস্যমণ্ডিত নিখুঁত শিল্প। শৈল্পীক বৃক্ষে ফুটিয়েছেন কাহিনির সন্দর্শন। তাঁর গল্পের কাহিনিতে বহুমাত্রিকতা, নান্দনিক ঐশ্বর্যমণ্ডিত শিল্পের গভীরতম প্রকাশ।