ইসলামিক ম্যানেজমেন্ট
ইসলামের শিক্ষা মানুষকে এই জীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সব দিকনির্দেশনাই যথাযথভাবে দেয়—এই নিগূঢ় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে বইটি। অন্য কথায়, ইসলাম আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছে তা একেবারেই নিখুঁত। এর যথাযথ প্রয়োগ এই জীবনে এবং পরকালেও আমাদের সাফল্য এনে দেবে। ইসলামের শিক্ষাকে যদি আমরা একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে দেখি, তবে সেখান থেকে আমরা ম্যানেজারিয়াল শিক্ষার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত আহরণ করতে পারি।সাইয়েদ কুতুব শহিদ তার তাফসির ‘ফী যিলালিল কুরআনে’ গনিমত ভাগ-বাটোয়ারার ফিক্হ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন যে, আগে গনিমত প্রাপ্তির উপায় নিয়ে আলোচনা হোক, গনিমত অর্জিত হোক, তারপর ভাগ-বাটোয়ারার আলোচনা করা যাবে। সালাফদের ফিক্হের কিতাবে এগুলো তো সব বলাই আছে। মুসলিমদের এখন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে অধিক পরিমাণ অধ্যয়নের সময় হয়েছে। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই তারা গোটা পৃথিবীকে আবার নেতৃত্ব দেবে ইনশাআল্লাহ।
টাইম ম্যানেজমেন্ট
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর রেশমি কাপড়ের কাজ করার একটি বড় ঘর ছিল। তাঁর কাছে অনেক পোশাক শ্রমিক ও কারিগর থাকত। অর্থাৎ তিনিও প্রায় ব্যস্ত ছিলেন। ইবনুল মুবারক রহ.-ও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। আবার তিনি ফিকহ, হাদীস ও জুহদের ইমামও ছিলেন।হামজা ইবনে হাবিব আজ-জাইয়্যাত রহ. । তিনি সাত কারিদের একজন ছিলেন। তিনি কুফা থেকে হালওয়ানে তেল আমদানি করতেন। ইমাম নববি রহ. তাঁর বাবাকে দোকানের কাজে সহায়তা করতেন। এই কাজ তাঁকে সে অল্প বয়সেও পবিত্র কুরআন হিফয করায় বাধা দিতে পারেনি।
সেলফ কনফিডেন্স
আমরা মুসলিম। মুসলিম হিসেবে আমরা কিছু মৌলিক বিশ্বাস এবং আদর্শ ধারণ করি। আমাদের এই বিশ্বাস মোতাবেকই আমরা আমাদের জীবন পরিচালনা করি। তাই আত্মবিশ্বাস অর্জনের যেসব পদ্ধতি আছে, তার চেয়ে আমাদের অনুসৃত পদ্ধতি ভিন্ন হবে। আমরা তা নিরূপণ ও অনুসরণ করব আমাদের আদর্শের আলোকে।সেক্যুলার চিন্তাবিদরা মানুষকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্তিত্বশীল সত্তা মনে করেন। মানুষের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করাটাকেই তারা জীবনের মূল উদ্দেশ্য মনে করেন। অন্যদিকে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করলে আমরা কেবলই আল্লাহর দাস। তাঁর দেওয়া বিধান অনুসরণ করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাটাই হলো আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য।
নবিজীবনে নেতৃত্বের শিক্ষা
সেক্যুলার রাজনীতিতে নেতৃবৃন্দের যে আনুগত্যের কথা বলা হয়, সেখানে মানুষকেই মানুষের প্রভু-উপাস্য বানিয়ে নেওয়া হয়; কারণ সেখানে মানুষই চূড়ান্ত, মানুষই সর্বোচ্চ, মানুষই সার্বভৌম—তাহার ওপরে নাই। পক্ষান্তরে ইসলামে নেতৃত্ব একটি ইবাদাত। নেতৃত্ব দেওয়া ও নেতৃত্বের আনুগত্য—উভয়টিই ইবাদাত। ইসলামে নেতৃবৃন্দের আনুগত্যকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদাতের সঙ্গে—আর তা ততক্ষণ কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ নেতৃবৃন্দ সৃষ্টিকে স্রষ্টার বিধানমতে পরিচালনা করবেন। তাই এখানে নেতৃত্ব অর্থ হলো, নিজে স্রষ্টার ইবাদাত করা এবং সকলের জন্য তাঁর ইবাদাতকে সহজ করে দেওয়া।