যাঁরা হাদীসশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, হাদীস সংগ্রহের উদ্দেশে যাঁরা শত শত মাইল দুর্গম পথ পদব্রজে গমন করেছিলেন, নির্ভুল হাদীসসমূহকে কষ্টিপাথরে যাচাই-বাছাই করে গ্রন্থাকারে একত্র করার মতো অসাধ্য কাজ যাঁরা সাধন করেছিলেন, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার বিনিময়ে মুসলিম জাতি রসূলুল্লাহ (স.)-এর নির্ভুল হাদীসসমূহ গ্রন্থাকারে পেয়ে সত্যের সন্ধান লাভ করতে পেরেছে ইমাম মুসলিম (রহ.) তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য|
ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর শ্রেষ্ঠ অবদান হলো তার সংকলিত ‘সহীহ মুসলিম’| তিনি বিভিন্ন মুসলিম জ্ঞান কেন্দ্র সফল করে সুদীর্ঘ পনের বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবিশ্রান্ত সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে চার লক্ষ হাদীস সংকলন করেন এবং সেগুলো হতে পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে তিন লক্ষ হাদীস সংকলন করেছেন- (তাযকিরাতুল হুফ&ফায ২/৫৮৯)| আবার এ তিন লক্ষ হাদীস হতে যাচাই-বাছাই করে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য পুনঃ পুনঃ উদ্ধৃত হাদীসসহ মোট বার হাজার হাদীস সহীহ মুসলিমে অন্তর্ভুক্ত করেন| আর পুনঃ পুনঃ উল্লিখিত হাদীসসমূহ বাদে প্রায় চার হাজার হাদীস সহীহ মুসলিমে রয়েছে— (তাদরীব আর্ রাবী ৩০)|
বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে পবিত্র কুরআনের পরই এ হাদীসগ্রন্থদ্বয়ের স্থান| আর মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামী শারী‘আতের বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতবিরোধ নেই যে, হাদীস গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে ইমাম বুখারী (রহ.) সংকলিত সহীহুল বুখারী| আর এরপরই সহীহ মুসলিম-এর স্থান| তবে কেউ কেউ আবার মুসলিমকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন| কেননা, ইমাম মুসলিম (রহ.) কোনো বিষয়ের ওপর বর্ণিত সকল মাতান যা বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে একই স্থানে একত্রিত করে লিপিবদ্ধ করেছেন| তাদেরকে বিভিন্ন অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করেননি| হাদীসের শিরোনাম খণ্ড খণ্ডভাবে লিখেননি যা সহীহুল বুখারীতে করা হয়েছে| হাদীসের শব্দ হুবহু রেখেছেন সামঞ্জস্য রেখে বর্ণনা করেননি| প্রত্যেক রাবী কর্তৃক বর্ণিত শব্দ স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন| তিনি হাদীসের সাথে সহাবীগণের কথা, তাবি‘ঈন এবং অন্যদের কথা অধ্যায় ও শিরোনামেও মিশ্রণ করেননি| এভাবে ইমাম মুসলিম (রহ.) অত্যন্ত কঠোর ও নিখুঁত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই মহান গ্রন্থটি সংকলন করেছেন|
অতএব রসূলুল্লাহ (স.)-এর খাঁটি সুন্নাহ জানতে ও নিজের জীবনকে ইসলামের আলোয় সাজাতে এবং একজন মুসলিম হিসেবে নিজের ঈমান ও ‘আমালকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে আমাদের ‘সহীহ মুসলিম’ নিয়মিত পড়া অত্যন্ত জরুরি|