মানুষের মন বড় বিচিত্র। ঠিক যেমন এই পৃথিবীর প্রকৃতি। প্রকৃতির মাঝে আমরা খুঁজে পাই পাহাড়, সাগর, গাছপালা, ঝড়-বৃষ্টি, ঋতুবৈচিত্র্য। মানুষের মনের আবেগগুলো তেমনি পাহাড়সমান—কখনো সাগরের মতো উত্তাল, আবার কখনো ঝড়ের তাণ্ডবে হৃদয়ে হয় রক্তক্ষরণ, চোখে ঝরে বৃষ্টি। পাওয়া না–পাওয়ার দোলাচলে মিশ্রিত এক জীবন। মানুষের মনের কথাগুলো কখনো আসে সুরের তালে তালে গান হয়ে, আবার কখনো আসে কবিতার গভীরে লুকানো কোনো পঙ্ক্তিতে।
ক্ষমা, প্রেম, ভালোবাসা বারবার আমার কবিতাকে ছুঁয়ে যায়। আমার ভাষা, আমার যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ— স্রোতের টানে বয়ে চলে আমার শিরায়–উপশিরায়। পাহাড়ের আনাচকানাচে বসন্তে কোকিলের ডাক, গোধূলিলগ্নে সাগরে ঢেউয়ের গর্জন, কখনো শীতের সকালে বাড়ির পাশের খেজুরগাছে রসের হাঁড়ি, আবার কখনো ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গরম চা হাতে সরষে–খেতের ওপর ছুঁয়ে যাওয়া কুয়াশা। সবখানে আমি ছন্দ দেখি, কবিতা দেখি।
নিঃসঙ্গতায় আমি প্রেম খুঁজি,
ভালোবাসায় অভিমান
নোনা জলে দেখি সকালের রোদ
হৃদয়ের অভিযান
আমি সব সময় সহজ ভাষায় কবিতা লিখতে পছন্দ করি। যে শব্দ সকলের জন্য সহজবোধ্য, যে কথা সবার মনের কথা হতে পারে, যে ব্যথা কেউ বলতে চেয়েও বলতে পারে না— সেই মৃত মনের কথা আমি লিখি। কবিতায় আমি দেশ ও প্রকৃতির পটচিত্র তুলে ধরতে চাই। ঠিক যেমন করে এই দেশ, দেশের মানুষ, নদ-নদী, খাল–বিল, ঋতুবৈচিত্র্য, মাতৃভাষা, স্বাধীনতা যুদ্ধ—এসব আমাকে ভাবায়। আমি চাই আমার কবিতা পড়ে আপনারাও ভাবুন।
সুপর্ণা এলিস গম