শিল্পীর মমত্ব ও একজন রামেন্দু মজুমদার
“দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশির বিন্দু ॥”
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নাম তাঁর রামেন্দু মজুমদার।
নাটকের মানুষ তিনি;
বিশ্ব-নাটকের বাঙালি পুরুষ।
চিন্তা-চেতনায় মেধা ও মননে গুরু-গম্ভীর
অথচ, নিরহঙ্কার বিনয়ী
মৃদুভাষী সৌম্য শান্ত সুস্থির!
ন্যায় নীতির প্রশ্নে আপসহীন সংগ্রামী স্বাধীন—
প্রতিক্রিয়াশীল অশুভচক্রের বিরুদ্ধে
খড়গহস্ত নির্ভীক;
শিল্প সংস্কৃতির ভুবনে বড়ই চেনা-জানা
অথচ, তিনি এক বিরল প্রকৃতির!
কুন্তল-লীলার বুকের সম্পদ তিনি যে,
সাত রাজার ধন এক মাণিক।
এই দেশ এই মাটি আমাদের
আপন ঠিকানা,
নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্যিক ধারায় সমৃদ্ধ হবে
সেতো তাঁরই বার বার চাওয়া;
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধ
আমাদের স্বাধীনতা
কখনোই যেতে পারে না বৃথা;
একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায়
ক্ষত-বিক্ষত বিবেক ও হৃদয়
তবু তাঁর চেতনা জাগরূক অপার:
‘পনেরো আগস্টের পর
এই ঘন-অন্ধকার থেকেও
আলোর পথ
আমাদের খুঁজে নিতে হবে আবার’;
জাগো মানবতা জাগো আবার;
জাগো মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-শপথের
অসাম্প্রদায়িক প্রাণে প্রাণ জাগো আবার;
জাগো রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যশক্তি জাগো আবার—
নাম তাঁর রামেন্দু মজুমদার।
থিয়েটারের প্রাণবন্ত মানুষ আপনি;
আপনার সৃজনশীল চিন্তা ও ভাবনায়
আর সাংগঠনিক কর্মদক্ষতার কারিশমায়
দেশের নব নাট্যচর্চায় যে-শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে
বিশেষ করে, বাংলাদেশের থিয়েটারকে
আপনি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন আন্তর্জাতিক বলয়ে,
এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার!
শুধু তাই নয়,
ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের
সভাপতির পদে আপনার অধিষ্ঠান
সেতো গোটা বাংলাদেশের
মানচিত্রকেই উজ্জ্বল করেছে হে মান্যবর!
বলা যায়,
আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের কীর্তিমানরা যখন
আকাশ সংস্কৃতির মোহমুগ্ধতায় বিভোর
তখন স্বপ্ন শুধু একটাই আপনার:
বাংলাদেশের নাটককে
কী করে কেমন করে
আরও অগ্রসর
আরও বিশ্বজনীনতায় উত্তরণ ঘটানো যায়;
পঞ্চাশ বছরেরও অধিককাল একটানা
আপনার ‘ত্রৈমাসিক থিয়েটার’ পত্রিকা সম্পাদনা
একবারও বন্ধ হয়নি যার প্রকাশনা,
এমন দৃষ্টান্ত আর কে কবে দেখেছে কোথায়?