অতীত ঢাকার আশ্চর্য ইতিহাস
প্রায় ২০০ বছর আগে রমনার এক টিলায় গড়ে উঠেছিল ঢাকার প্রথম কফি হাউস,এ খবর জানতেন? বিরল গাছপালার খোঁজে,মসলিন কাপড়ের বৈভবের টানে কিংবা স্রেফ নিখাদ কৌতূহল থেকে বিজ্ঞানী ডাল্টন হুকারের মতো একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি দীর্ঘ দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন – সেই সব সফরের খতিয়ান কি মিলবে? ঢাকার রাস্তায় চলা প্রথম কলের গাড়িটি শহরে পৌঁছে দিয়েছিলেন নবাব সলিমুল্লাহর ভিনদেশি গাড়ি ব্যবসায়ী ‘তরুণ বন্ধু’,তিনি আদতে কে? দা ভিঞ্চির নয়—আরমানিটোলায় যে এক বিখ্যাত অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শিল্পীর আঁকা ‘দ্য লাস্ট সাপার’ নামের একটি চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে,কখনো শুনেছেন? সেকালের ঢাকায় বানানো বজরার কদরই ছিল আলাদা,খোদ রবীন্দ্রনাথেরও ছিল এক ঢাকাই বজরা—সেই শিল্প কোথায় হারাল? ফুলবাড়িয়ার বিলুপ্ত রেলস্টেশনের অসামান্য বইয়ের দোকান ‘হুইলার’ কেন বন্ধ হলো? আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার নেপথ্যে ডাক্তার সিম্পসন ও উদ্যানবিশারদ প্রাউডলক সাহেবের ভূমিকাই বা কী? এ বইয়ে ইতিহাস গবেষক তারেক আজিজ ঢাকার অতীত ইতিহাসের এমনই অজানা ও অশ্রুতপূর্ব এক ডজন আশ্চর্য আখ্যান তুলে এনেছেন।
অতীত ঢাকার আরও ইতিহাস: জাদুঘর থেকে জাদুকর
৭৯৯ সালে নায়েব নাজিম নুসরাত জঙের আমন্ত্রণে এক বিলেতি চিত্রকর এসেছিলেন ঢাকা শহরে, কেমন ছিল তাঁর সে সফর? নারিন্দা কবরস্থানে বহুদিন ধরে সমাহিত এক দুর্ভাগা তরুণ ইংরেজ, তাঁর জীবনের কাহিনির সঙ্গে ঢাকা কীভাবে জড়িয়ে? ঢাকার পিলখানার হাতি কীভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে চলে গিয়েছিল সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়? ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের উত্তাল সময়ের মাঝেই গড়ে উঠেছিল এ শহরের প্রথম জাদুঘর, কেন সেই জাদুঘর কালের আঘাতে বিলুপ্ত হলো? আঠারো শতক থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি অব্দি শুকনো মৌসুমে ঢাকা শহরে আগুন লাগাটা ছিল নিত্যকার ঘটনা, সেই সব ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনার বিবরণ কোথায় মিলবে? পাটুয়াটুলির এক ধাত্রী এমনই এক অগ্নিকাণ্ডে জনৈক নবজাতকের প্রাণ বাঁচিয়ে পরিণত হয়েছিলেন ‘লোকাল হিরো’-তে, যিনি আবার বিক্রি করতেন বইও-কে তিনি? সেকালের ঢাকায় নিয়মিত বিরতিতে ভোজবাজি দেখিয়ে স্থানীয়দের মুগ্ধ করতেন দেশীয় জাদুকররা, আসতেন ভিনদেশি বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ানরাও-অবিশ্বাস্য মনে হয়? বলধার জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ নিজের ওয়ারীর বাগানে ফোটাতে চেয়েছিলেন দুর্লভ নীলপদ্ম, তিনি কি সফল হয়েছিলেন? ঢাকার দুই বিখ্যাত সিনেমাহল ‘ব্রিটানিয়া’ ও ‘লায়ন’-এর ছিল এক বর্ণাঢ্য অতীত, একালের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা কি তা জানেন? এ বইয়ে ইতিহাস গবেষক তারেক আজিজ অতীত ঢাকার এমনই কৌতূহলোদ্দীপক এক ডজন অজানা আখ্যান নিয়ে হাজির হয়েছেন, আবারও।
রোদের ঘ্রাণ আর বাতাসের রং
বিশ শতকের সত্তর-আশির দশকে যারা ঢাকা অথবা বাংলাদেশের যে কোনো বড়ো শহরে শৈশব-কৈশোর-যৌবন কাটিয়েছেন, তাদের জন্য যেমন-তেমনি সেই সময়টি একেবারেই না-দেখা উত্তরপ্রজন্মের জন্যও ‘রোদের ঘ্রাণ আর বাতাসের রং’ রীতিমতো এক টাইমমেশিন। এর প্রতিটি অধ্যায়ে এত নিপুণভাবে স্মৃতির সুতো বোনা হয়েছে যে পড়তে গিয়ে পাঠকের মনে হবে এ যেন তার নিজের জীবনেরই কোনো একটা ভুলে যাওয়া আশ্চর্য অধ্যায়। সুখপাঠ্য-সুলিখিত গদ্যে হারিয়ে যাওয়া শহর ঢাকাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাইলে এ বই বিকল্পহীন।
পুনশ্চ ঢাকা
ঢাকা মোগল রাজধানী হয়েছিল চারশ বছর আগে। এর প্রতিষ্ঠাতা সুবাদার ইসলাম খাঁ চিশতি মারাও যান এখানে। কিন্তু কীভাবে তিনি মারা গেলেন? আর কীভাবেই-বা তাঁর মৃতদেহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঢাকা থেকে প্রায় ১৭০৬ কিলোমিটার দূরত্বের তাঁর শেষ বিশ্রামস্থলে?
কেমন ছিল চারশ বছর আগের মোগলদের ঢাকা? এটা কি জানেন ১৭৯০ সালে ঢাকা শহরে আসা এক দল বিদেশি সৈন্য চালু করেছিল ভাড়াটে ঘোড়ার গাড়ি। আর সেটিই ছিল ঢাকার গণপরিবহণের সূচনা। আজকের যে রমনা পার্ক, সেটির শুরুটা কিন্তু হয়েছিল মোগলদের হাত ধরেই। তারপর রমনা হয়েছে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী।
ভারতবর্ষকে যথাযথ শাসনের জন্য এখানকার নদীপথগুলোকে আবিষ্কার এবং সঠিক মানচিত্র করাটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর সেই কাজই ঢাকায় বসে করেছিলেন ভারতীয় ভূগোলবিদ্যার পথিকৃৎ মেজর জেমস রেনেল। একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতির চিত্রটাও খোঁজা হয়েছে নির্মোহভাবে।