শাহিনের দেওয়া বেগুনী রঙের শাড়িটায় বিন্তিকে আজ চমৎকার দেখাচ্ছিলো। তবে অপেক্ষা এবং আতঙ্কে বন্দি বিন্তির সব আনন্দ যেন নিমিষে উধাও হতে বসেছে, তার কপালে এই প্রথম উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে বেশকিছু স্পষ্ট ভাঁজের রেখা, সাথে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকীর রাতে সেজে ওঠা ঘরটা ক্রমে ভরে যাচ্ছে অনুপস্থিতির ঠান্ডা নিশ্বাসে, তবু শাহিনের ফেরার নাম নেই। রাত পেরিয়ে সকাল হলো, সকাল পেরিয়ে আবার রাত। একদিন, দু’দিন, তিনদিন, একবছর, দু’বছর... শেষমেশ সাত সাতটা বছর হতে চললো।
আচ্ছা, শাহিন কি আর কোনোদিন ফিরবে না? সে কি আদৌ বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে? নাকি ইচ্ছে করে হারিয়ে গেছে কোনো অজানা বৃহস্পতিতে?
সেদিন বেরোবার আগে শাহিন বলেছিল,
‘অপেক্ষা কোরো লক্ষ্মীটি,
আজ সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ফিরবো!’