শিল্প-সাহিত্য-সমাজ বিষয়ক আলোচনায় সংস্কৃতি শব্দটির আনাগোনা বেশ কিছু সময় ধরে চলছে। শব্দটির নান্দনিক প্রতিভাস শ্রুতিমধুর ও দর্শনীয় হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। তবে সংস্কৃতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একথাও অনেকে মানেন যে নান্দনিকতাই সংস্কৃতির একমাত্র রূপ নয়,মানবজীবনের সবকিছুই মানবতার সংস্কৃতিব্যঞ্জক। সেই দৃষ্টিতে সংস্কৃতির কথা উঠলে মানবসংস্কৃতির তথা মানবসমাজের মধ্যেকার তারতম্যও সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা প্রয়োজন হয়ে উঠে। মানুষ যুগ যুগ ধরে অসাম্য বঞ্চনা হীনতার মধ্যে বেঁচে আছে,একই ব্যবস্থা পুনরুৎপত্তি অর্জন করেছে,হাজার বছর ধরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নতি যৎসামান্য হলেও সেটাকে ফলাও করে বিশাল অর্জন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে,এবং আশ্চর্য যে মানবতা এত শঠতা মিথ্যা অন্যায় অবিচার যেন মেনে নিয়ে চরম ঔদাসীন্যে কালাতিপাত করে চলেছে। কোন জাদুতে কীভাবে কে কারা এটা সম্ভব করেছে? জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভূত অগ্রগামিতার সময়ে এই অসামঞ্জস্য আমরাই বা কেন মেনে চলছি? এই রচনাগুলোর উদ্দেশ্য সমষ্টিগতভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দেবার প্রচেষ্টা এবং উত্তর সংগ্রহের জন্য আরো বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার পথ প্রদর্শন করা। রচনাগুলোর শিরোনাম ভিন্ন তবে প্রতিপাদ্য বিষয় একই। এককভাবে পাঠ করলেও রচনাগুলো থেকে একই চিন্তার খোরাক সংগ্রহ প্রচেষ্টা এবং প্রবন্ধ পাঠের রসাস্বাদন ব্যহত হবে না।