১৯৮৬-র মাঝামাঝিতে মোহিত কামালের প্রথম গল্প বেরোল। গল্পের শিরোনামটি পাঠককে চমকে দিল-'চারপাশ যখন ভাঙতে থাকে'। গল্পটি গূঢ়ার্থমূলক। লেখক প্রথম গল্পেই জানিয়ে দিলেন-তাঁর কথাসাহিত্যের কেন্দ্র-অনুষঙ্গ হবে মানবজীবনের বিষয়-আশয়।
তিনি একজন সমাজসচেতন মানবমনস্ক কথাশিল্পী। তাই মানুষের মূল্যবোধে যে গুরুতর পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তার অতি সূক্ষ্ম উপস্থাপন লক্ষ করা যায় এই মনোচিকিৎসক-অধ্যাপকের গল্পকথায়। 'শ্রেষ্ঠ গল্প' গ্রন্থটি বাংলাসাহিত্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন-নিঃসংশয়ে বলা যায়।
শিক্ষিত ভদ্রলোকেরা খুব সহজেই যেমন তাঁর গল্পের চরিত্র হয়েছে, তেমনি পথেঘাটে-প্রান্তরে, কলে-কারখানায়, বস্তিতে দেখা নিঃস্ব রুক্ষ বঞ্চিত মানুষের অজ্ঞাত মনোজগৎও লেখক আমাদের সামনে উপস্থিত করেছেন।
মোহিত কামাল ছোট ছোট বাক্যের গল্প পছন্দ করেন বেশি। যে লেখকের মধ্যে সুখ-দুঃখ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, সন্ধ্যা-সকাল, উদ্বেগ, আশা-নিরাশা, বিদ্বেষ-ভালোবাসার দ্বন্দ্ব নেই, তিনি কখনও যথার্থ লেখক হয়ে উঠতে পারেন না। এসব নিয়েই মোহিত কামাল বুক ফুলিয়ে সাহিত্যঙ্গনে দাঁড়িয়ে আছেন, আর এটাই একজন প্রকৃত কথাসাহিত্যিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি অর্জন করেছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।
তাঁর গল্প পাঠকের অবশ্যই ভালো লাগবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। প্রতিটি গল্প পাঠককে জীবনজিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করাবে।