মহাত্মা রামমোহন রায়ের পর বঙ্গভাষার গদ্যে বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমারের রাজত্বকাল। বিদ্যাসাগরের ভাষা রামমোহনের ভাষা অপেক্ষা পরিমার্জিত বটে,কিন্তু তাহাও যেন প্রাণহীন। সে ভাষা শুনিয়া হৃদয়তন্ত্রী ঝংকার দিয়া ওঠে না,কর্ণে প্রবেশমাত্রই প্রাণ আলোড়িত করিয়া তোলে না। তবে বিদ্যাসাগর বঙ্গভাষাকে একরূপ পথ দেখাইয়া দিলেন। তাঁহার গ্রন্থসমূহের মধ্যে শকুন্তলার ভাষা অপেক্ষাকৃত শ্র“তিমধুর ও প্রাঞ্জল। ভাষায় উচ্ছ্বাস ও শব্দের লালিত্য আমরা প্রথম অক্ষয়কুমারের লেখায় দেখিতে পাই। অক্ষয়কুমারের ভাষা জীবনশূন্য নহে,সম্পূর্ণ জীবনময়ী। আর ইংরেজিতে যাহাকে বধংু ভষড়ি কহে তাহারও এইখানে আরম্ভ এবং বিকাশ বঙ্কিকচন্দ্র। অক্ষয়কুমারের ভাষা সম্বন্ধে যাহা বলিলাম তাহা তাঁহার স্বপ্নদর্শন প্রভৃতি প্রবন্ধগুলিতে প্রমাণিত হইবে। অক্ষয়কুমারের প্রবন্ধগুলি অতি ভাবপূর্ণ।