সাক্ষী আছে নীল ফেনিল তরঙ্গোত্তাল এই বঙ্গোপসাগর। সাক্ষী আছে ওই নীল বনাচ্ছন্ন উপকূলজুড়ে মালার মতো পাহাড়ের সারি আর শাশ্বত আকাশ। নাফ দরিয়ার মোহনা ঘেঁষে যে আরণ্যক ভূমি ব্রহ্মদেশ থেকে নিজেকে স্বতন্ত্র করে বঙ্কিম রেখায় ক্রমে এগিয়ে গেছে উত্তর-পশ্চিমে, ক্রমে সমতল হয়ে সুপারি নারিকেল বনের ধারে ধারে অশান্ত সাগরের হাত ধরে কোমল হৃদয়া ভীরু নারীর মতো নমনীয় হয়ে এসেছে।
তারপর সুন্দরবনের ভয়াল অরণ্যে হয়েছে বিচিত্র। তবু ধন-ধান্যে হয়েছে পুষ্পিত। এই সেই স্বর্ণ প্রসবিনী দেশ বাংলাদেশ। কিংবদন্তিতে এর নাম 'সোনার বাংলা'। ইতিহাসের বাদশাহ সম্রাটদের ভাষায় 'জান্নাত উল বেলাত'। অতীতের বণিকদের কাছে বাণিজ্য স্বর্গ। এর এক টুকরো মসলিনের বিনিময়ে ইউরোপের সুন্দরীরা দয়িতের কাছে প্রাণমন সমর্পণের শর্ত করত। মহার্ঘ সেই মসলিন কাপড়ের জন্য সে- দেশের রাজ-রাজড়ারা গগনচুম্বী মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকতেন।