সম্পাদকীয়
আল্লাহর অসীম কৃপায় আমরা হাজির হয়েছি “ত্রৈমাসিক সুকূন, শব্দফুলে ছড়িয়ে পড়ুক দ্বীন ইসলামের সুবাস”-এর ১ম সংখ্যায়।
আজকের এই অস্থির সময়ে আমাদের চারপাশে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক শৃঙ্খলার ভাঙন, দুশ্চিন্তা ও হতাশার কালো ছায়া ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। অথচ মুসলিম পরিবারই আমাদের সভ্যতার ভিত্তি—যেখানে রয়েছে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের অমূল্য ভান্ডার। যদি আমরা এই মূল্যবোধগুলোকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ না করি, তবে নৈতিক অবক্ষয় ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি সমাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণের রূপ নেবে—যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও গভীর সংকটে ঠেলে দেবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সর্বোত্তম মানুষ সে-ই, যে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, অন্যের জন্যও তাই পছন্দ করে।” (বুখারি ও মুসলিম)
আরেক হাদীসে তিনি ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের কষ্ট দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কষ্ট দূর করবেন।”
এমনকি অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়ার ব্যাপারেও তিনি ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে।” — সুবহানাল্লাহ!
এই শিক্ষাগুলোই আমাদের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে গেঁথে নিতে হবে। তবেই আমাদের সমাজ থেকে দুঃখ, অস্থিরতা ও কষ্ট দূর হবে, ফিরে আসবে অন্তরের প্রশান্তি। “ত্রৈমাসিক সুকূন, শব্দফুলে ছড়িয়ে পড়ুক দ্বীন ইসলামের সুবাস” এ উদ্দেশ্যে একটি ছোট উদ্যোগ—যেখানে মুমিনা কলমশিল্পীরা কলাম ও প্রবন্ধের মাধ্যমে সত্য, নৈতিকতা ও শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আন্তরিক প্রচেষ্টা, পারস্পরিক আলোচনা এবং দ্বীনী শিক্ষার আলোকে মত বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের জীবন সুন্দর হবে, পরিবারগুলোর মাঝে পারষ্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় হবে এবং সমাজ হবে কল্যাণময়। নতুন উদ্যোগের পথে ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। তবে পাঠকবৃন্দ যদি আন্তরিকভাবে সেগুলোকে সংশোধন করে দেন, তবে আমাদের যাত্রা হবে আরও পরিপূর্ণ। আমরা প্রত্যেকেই এ দুনিয়ার সাময়িক যাত্রী। কিন্তু আখিরাতে স্থায়ীভাবে জান্নাতের নাগরিক হওয়ার দৃঢ় আশা আমাদের বুকে লালিত। সেই লক্ষ্যেই আমাদের সংগ্রাম, আমাদের প্রচেষ্টা, আমাদের কলমের প্রয়াস। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের মূল প্রেরণা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই মহান সফলতার পথে পরিচালিত করুন— যেখানে আছে জান্নাতের স্থায়ী প্রশান্তি, আর আখিরাতের অনন্ত বিজয়।