সুমন। কতোই বা বয়স। মাত্র আড়াই বছর। তার যে কতো কষ্ট, কেউ বুঝে না। কারণ সবাই তার বড়ো। কেউ তার কথা শুনতে চায় না। শুনলেও বুঝতে চায় না। কেউ বা আবার ধমক দেয়। বলে, এতো কথা বলো কেন? কেউ বা 'তুই', তোকারি করে কথা বলে। কেন, এমন হয়, 'তুই' আবার একটা ভাষা নাকি! বড়োরা বড়োদের মতো করে ভাবে। সবাই ভুলে যায় যে তারাও একদিন ছোট ছিল। তাদেরও অনেক চিন্তা-ভাবনা ছিল, না বড়ো হয়ে সবাই মনে করে, তারা বোধ হয় এতো বড়ো হয়েই পৃথিবীতে এসেছে। সুমন সব বুঝে। কিন্তু সে কীভাবে বুঝাবে যে তারও চাহিদা আছে। তারও চাওয়া-পাওয়া আছে। সে চায় সবাই তাকে ভালোবাসুক। সবাই তার সাথে খেলা করুক। সমস্যা হল, তার কথা মতো কিছু হয় না। তার ইচ্ছেকেও কেউ গুরুত্ব দেয় না। বড়োরা ভাবে, সে ছোট বলে কিছু বুঝে না, তাই তার কথা কেউ পাত্তা দিতে চায় না, দেয়ও না। কেন, একথার মানে সে জানে না। তাই তার ভাবনা। কবে যে বড়োদের মতো বড়ো হবে! আজ, না কাল? সুমনের ইচ্ছে, মা-বাবা যেন সবসময় তার কাছে থাকে। কিন্তু না, তাও তো হয় না। অনেক বার সে বলেছে, তোমরা চলে গেলে আমার ভালো লাগে না।