ডিসেম্বরের সূর্য যখন ঢলে পড়েছে সুন্দরবনের মাথার ওপরে, মাঠের সর্ষে খেতগুলোর হলুদ ফুলে গা এলিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে শেষ বিকেলের রোদ্দুর, তখন এসে আমি দাঁড়ালাম সেই তালগাছটার গোড়ায়- এক চাঁদনি রাতে যেটার গুঁড়ির আড়ালে ট্রেঞ্চ খুঁড়েছিলাম। আমার সঙ্গে ছিল আরও ক'জন গেরিলা যোদ্ধা। অবশ্য, ১৯৭১-এর সেই ২৭ নভেম্বরে আমরা আর গেরিলা যোদ্ধা ছিলাম না, হানাদার পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছিলাম বারবার, সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে আমরা হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছিলাম চালনা পোর্ট থেকে।
প্রায় দু'কোম্পানি পাক আর্মি তাদের ডিফেন্স সাজিয়েছিল ফকিরহাটে, যেখানে তারা পাকা বাঙ্কার তৈরি করে ও ট্রেঞ্চ খুঁড়ে ডিফেন্স লাইন গড়েছিল কৌশলগত দিক দিয়ে সে জায়গাটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিফেন্স লাইন থেকে দু'কিলোমিটার দক্ষিণে, এই গ্রামটার উত্তর পাশের মরা নদীটার ওপারে ছিল তাদের ফ্রন্ট লাইন।