কবিতার ভেতরে থাকে উন্মাদনা, উত্তেজনা, ভাব-সাধনা। যেকোনো শিল্পের ভাবই প্রধান। কবির কবিতার ছন্দ, বুনন, অলংকরণ, রস ইত্যাদির ভিন্নতা প্রাপ্তি হয় বটে, কিন্তু সংবেদনশীলতা অপূর্ণ থাকে না। ক্ষুণ্ন হয় না শিল্পগুণ। কবিতা বিশুদ্ধ মননচর্চার ফসল। যে ফসলের পরিচর্যা কবি নিরন্তর করেন। তবে কবিতার আত্মা ও শরীরের শৈল্পিক আচ্ছাদনই কবিতার সার্থকতা। কবিতা বহুরৈখিক, সরল একরৈখিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না।
কবিতা বোদ্ধারা অনেক কথা বলেছেন। কীটস মনে করেন, কবিতা যুদ্ধ করবে তার সূক্ষ্ম অপরিমেয়তায়, ঝংকারে নয়। এমিল ডিকিনসন বলেন, আমি যদি কোনো বই পড়ি এবং যা আমার শরীরকে এত শীতল করে তোলে যে, কোনো আগুনই আমাকে উষ্ণ করতে পারে না। আমি জানি সেটাই কবিতা। কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ কবিতাকে বলেছেন, তীব্র অনুভূতির স্বতঃস্ফ‚র্ত উৎসারণ। বোদলেয়ার কবিতাকেই কবিতার শেষ কথা বলেছেন। তাই কবিতা নিয়ে বলা যায়, ‘বলো বলো তোমার কুশল শুনি, তোমার কুশলে কুশল মানি।’