উপমহাদেশে সংগীতের উৎপত্তি ও এর ক্রমবিকাশ :
প্রকৃতপক্ষে জগৎ সংগীতময়। কারণ নদীর কল্লোলে, বনের মর্মরে, পশুপাখির কলকাকলিতে সংগীত নিরন্তর প্রবাহিত। অর্থাৎ পৃথিবীর সবকিছুর মধ্যেই সংগীত অনাদিকাল ধরে ঝংকৃত হয়ে চলেছে। মানবজাতি তার নৈসর্গিক শক্তির প্রভাবে ভাব, ভাষা, বিবিধ চিন্তা ও কামনা ব্যক্ত করে সংগীতের পরম উৎকর্ষ সাধন করেছে। কারণ মানুষ মাত্রেরই কম-বেশি সংগীত শক্তি আছে।
হিন্দু শাস্ত্রমতে কথিত আছে যে বেদ চতুষ্টয়ের স্রষ্টা ব্রহ্মা সংগীত বিদ্যা সৃষ্টি করে শিবকে এবং শিব সরস্বতীকে দান করেছিলেন। আরবে প্রচলিত আছে যে, হযরত মুসা (রাঃ) পাহাড়ে ভ্রমণকালে একদিন দৈববাণী শুনতে পান, “হে মুসা, তোমার অসি দ্বারা সামনের পাহাড়ে আঘাত করো।” সেই নির্দেশানুসারে পাহাড়ে আঘাত করার ফলে পাহাড়টি সাতটি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। এই সেই সাতটি খণ্ড থেকে সাতটি জলধাম প্রবাহিত হতে থাকে এবং সেখান থেকেই সাতটি স্বরের উৎপত্তি বা সৃষ্টি।