সকাল থেকেই আকাশটা থেমে থেমে কাঁদছে। তার কান্নার সঙ্গী হয়ে গাছের পাতারা ফোঁটায় ফোঁটায় জল নিঃসরণ করে ধরণির তৃষ্ণা মেটাচ্ছে। আরও একজন আকাশের সঙ্গে মিতালি করে পাল্লা দিয়ে কাঁদছে। আকবর হোসেনের কান্নার কোনও কারণ ছিল না। বরং তার মনটা আজ ভোরের রাঙা সূর্যের ন্যায় আনন্দে উদ্ভাসিত থাকার কথা। আজ সে জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার পেয়েছে। খুব বেশি আনন্দিত হওয়ার ঘটনায় মানুষ মাঝে-মাঝে উলটো আচরণ করে। আকবরের ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে। বিষাদে তার মনটা ভারাক্রান্ত।
খবরটা পাওয়ার পর থেকেই তার বুকের গহিন গোপনে জমে থাকা কান্নারা দমকা হাওয়ার মতো বাইরে বেরিয়ে এসেছে। বহুদিন যেন কান্নাগুলো বদ্ধ খাচায় বন্দি হয়ে ছিল। আজ মুক্তি পেয়ে এক জীবনের সকল কান্না তার আনন্দধারায় এসে মিশে যেতে চাইছে। পিন্টুর বাবা আকবর হোসেন সিংহপুরুষ। ছোটোখাটো একটি সরকারি চাকরি করলেও জীবনের সকল সঞ্চয় সন্তানের পড়াশোনার পেছনে লগ্নি করেছেন।