"স্বাধীনতার প্রথম দশকে বাংলাদেশ" বইটির শেষের ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ দৈনিক বাংলার সহযােগী প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে। সাপ্তাহিক বিচিত্রাকে তীব্র প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। এ অবস্থা বিচিত্রার কর্মীদের মনােবলকে দুর্বল করতে পারেনি, কারণ তারা ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তরাধিকারী এবং সাংবাদিকতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই বিশ্বাস ও সাহসে ভর করেই বিচিত্রায় কর্মরত সাংবাদিকদের কেউ বাকশাল-এ যােগদান করেননি। সম্পাদক হিসেবে শামসুর রাহমানও এই দলে ছিলেন। আজকের প্রজন্ম, বিশেষ করে বর্তমানের তরুণ সাংবাদিকরা উপলব্ধি করতে পারবেন না বাকশাল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের কর্মের অবস্থানকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছিল। বাকশাল ব্যবস্থার কারণেই সাংবাদিকদের অনেকেই কাস্টমস কর্মকর্তা ও একজন ফল বিক্রেতাও হয়েছিলেন। বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য, সাহসী লেখা, তরুণ প্রজন্মের চিন্তার প্রতিফলন বিচিত্রাকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। তকালীন সময়ে সমাজের অনিয়ম, অসঙ্গতি সবই প্রকাশিত হতে থাকে বিচিত্রার পাতায়। ৫০ পয়সার বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে অন্যত্র প্রকাশ অযােগ্য বিষয়বস্তুকে প্রচ্ছদকাহিনীতে তুলে নিয়ে আসে বিচিত্রা। বিচিত্রার পাতায়ই প্রথম প্রকাশিত হয় সেগুনবাগিচায় পিটিয়ে মেরে ফেলা যুবক গােলাম ফারুক পিনুর ছবি।